ভাসমান কাপড় বিক্রেতা থেকে ইউপিডিএফ কালেক্টর-বিচার বিভাগের প্রধান বাবুধন চাকমা

ভাসমান কাপড় বিক্রেতা থেকে ইউপিডিএফ কালেক্টর-বিচার বিভাগের প্রধান বাবুধন চাকমা

ভাসমান কাপড় বিক্রেতা থেকে ইউপিডিএফ কালেক্টর-বিচার বিভাগের প্রধান বাবুধন চাকমা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা এবং পাহাড়ের চলমান সাজেকের ঘটনাপ্রবাহে আলোচনায় উঠে আসা একটি নাম বাবুধন চাকমা। তাঁর পরিচয়, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং তাঁকে ঘিরে থাকা বিতর্ক নিয়ে কৌতূহল রয়েছে অনেকের। কে এই বাবুধন চাকমা, কীভাবে তাঁর উত্থান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহে তাঁর ভূমিকা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এই প্রতিবেদন।

বাবুধন চাকমা বর্তমানে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দিতে এবং সাজেকে ধারাবাহিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও স্থানীয়দের সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। পূজার জন্য ১৬-২১ অক্টোবর এ অবরোধ কর্মসূচি বন্ধ থাকলেও পূজার ছুটি শেষে এ অবরোধ কার্যক্রম আবারও সচল করা হয়।

অতীতে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনী এলাকায় বসবাস করতেন বাবুধন চাকমা। আনুমানিক দেড় দশক আগে সাজেকের মাচালং বাজারে এসে ভাসমান কাপড় বিক্রি শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট, করেঙ্গাতলীতে ভাসমান কাপড় বিক্রি করেন।

মাচালং বাজার প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ইউপিডিএফ অধ্যুষিত শক্তিশালী অঞ্চল। ব্যবসার সুবিধায় তার সঙ্গে ইউপিডিএফের সখ্যতা গড়ে উঠে। মোটামুটি শিক্ষিত এবং চতুর হওয়ায় সহজে ইউপিডিএফের বিশ্বস্ততা অর্জন করে ফেলেন তিনি।

কয়েক বছরের মধ্যে তিনি মাচালং বাজারে ইউপিডিএফের কালেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে ইউপিডিএফ তাকে পুরো সাজেকের তাদের বিচার বিভাগের প্রধান করে।

পরবর্তী সময়ে তিনি ইউপিডিএফের বিচার বিভাগ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি এ সংগঠনটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

পাশাপাশি তিনি গঙ্গারাম উজোবাজার ব্যবসায়ী কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। বিয়ে করেছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়ন থেকে। তার উজোবাজারে একটি কাপড় ও জুতোর দোকান রয়েছে। স্থানীয় জনগণ এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাজেকের মাচালং বন বিভাগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছিল বন বিভাগ। এ মামলার আসামিদের মধ্যে তিনি ছয় নম্বরে রয়েছেন। পুলিশের চোখে তিনি পলাতক হলেও সাজেকে ইউপিডিএফের হয়ে প্রকাশ্যে সামনের সারি থেকে অবরোধের মতো কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে এই বাবুধন।

বাবুধন চাকমাকে ঘিরে আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা এবং পাহাড়ের জটিল বাস্তবতার নানা দিক সামনে আসে। এই বাবুধনকে ঘিরেই সাজেক ইস্যুর আড়ালে পাহাড়ে নতুন করে শক্তি অর্জনের কৌশল আঁকছে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ ইউপিডিএফ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed