খাগড়াছড়ির রামগড়ে ইউপিডিএফের (প্রসীত) বাঁধায় ব্রিজ নির্মান কাজ বন্ধ - Southeast Asia Journal

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ইউপিডিএফের (প্রসীত) বাঁধায় ব্রিজ নির্মান কাজ বন্ধ

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফের (প্রসীত) সশস্ত্র সদস্যরা খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ৮ কোটি টাকার ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণের দুটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

এর মধ্যে রামগড় সদর ইউনিয়নের বৈদ্যপাড়ায় পিলাক নদীর উপর প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার ৭৮ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করার পর ঐ সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যরা বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন। এর আগেও ঐ এলাকায় এলজিইডির কয়েক কোটি টাকার তিনটি ব্রিজ নির্মাণ প্রল্পের কাজও করা যায়নি সংগঠনটির বাধায়।

অন্যদিকে, উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নে প্রায় দেড় কোটি টাকার ১৭শ মিটার দীর্ঘ খাগড়াবিল-মানিকছড়ি ভায়া বাটনাতলী বাজার রাস্তার কাজও বন্ধ করে দিয়েছে ঐ সংগঠনের শসস্ত্র সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কাজ বন্ধ করে দেয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ঐ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের লিডারদের সাথে যোগাযোগ করে শেষ পর্যন্ত কাজ করার অনুমতি না পাওয়ায় সাইট থেকে শ্রমিক, নির্মাণ সামগ্রী ও মেশিনপত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

সূত্র জানায়, বৈদ্যপাড়ায় কাজ বন্ধ করে দেয়ায় ঐ ঠিকাদার একই প্রকল্পের বৌদ্ধধন কার্বারিপাড়া এলাকার ব্রিজের কাজ আর শুরু করেনি।

রামগড় উপজেলা সদর হতে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে বৈদ্যপাড়ার প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, পিলাক নদীর ওপারে হাজাছড়াসহ কয়েকটি গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্যই ব্রিজ নির্মাণের এ প্রকল্পটি নেয়া হয়। হাজাছড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি নিউরী মারমা বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হলে ভিতরের পার্টি(ইউপিডিএফ) কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বলে শুনেছি।’

রামগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আ. লীগ নেতা শাহ আলম মজুমদার বলেন, অনেক চেষ্টা তদবির করে ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্পটি অনুমোদন করানো হয়। ঠিকাদার কাজ শুরু করার পর ইউপিডিএফের সদস্যরা এসে কাজ বন্ধ করে দেয়।’ তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় সভা ও রামগড়ে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভায়ও তিনি উত্থাপন করেছেন।

দুর্গম বৈদ্যপাড়া, লক্ষ্মীছড়া ও মাটিরাঙ্গার অভ্যা এলাকায় ইতিপূর্বেও এলজিইডি একাধিক ব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প নিলেও পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনের শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা কাজ করতে দেয়নি বলে জানা যায়।

সূত্র জানায়, নিজেদের আস্তানা নিরাপদ রাখার জন্যই ঐ এলাকায় ব্রিজ, রাস্তা বা যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কোন কাজ করতে দেয় না তারা।

এদিকে, এলজিইডির ডি.ডি.আর.আর.আই.পি প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকার খাগড়াবিল জিসি মানিকছছড়ি জিসি ভায়া বাটনাতলী বাজার রাস্তা নির্মাণ কাজও বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৭শ মিটার দীর্ঘ এইচবিবি (ব্রিক সলিং) রাস্তার কাজ শুরুর পর কয়েক দফা কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ইউপিডিএফকে চাঁদা দিয়ে ম্যানেজ করে সিংহভাগ কাজ শেষ করলেও রাস্তার শেষ প্রান্তে প্রায় ২৫০ মিটার অংশের কাজ করতে দিচ্ছে না তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার উদ্দেশ্যে ঐ অংশের কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না।

বৈদ্যপাড়া ব্রিজ ও খাগড়াবিল-বাটনাতলী রাস্তা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়ার কথা স্বীকার করে এলজিইডির রামগড় উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পাহাড়ি সংগঠনটির সাথে বহুবার যোগাযোগ করেও এখনও কূল কিনার করতে পারেনি। এ বিষয়টি প্রকল্প পরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ঠিকাদার কাজ করতে না পারলে প্রকল্প বাতিল হয়ে যাবে।

রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কার্বারি বলেন, বৈদ্যপাড়া ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পটি খাগড়াছড়ি এমপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রকল্প। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এ ব্যাপারে কিছু না জানালেও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জেনে তিনি বিষয়টি রামগড় বিজিবির অধিনায়ককে অবহিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার চাইলে বিজিবি নিরাপত্তা দেবে বলেও অধিনায়ক তাকে বলেছেন বলে জানান।

এদিকে, রামগড়ে প্রায় ৮ কোটি টাকার আলোচ্য সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ। তবে তিনি এখন খোঁজ নেবেন বলে জানান।