পাহাড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান: কেএনএফের প্রধানসহ ৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা - Southeast Asia Journal

পাহাড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান: কেএনএফের প্রধানসহ ৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাহাড়ে জঙ্গিবিরোধী সমন্বিত অভিযানের পর নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দিল শারক্বীয়ার সাত সদস্য ও কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মামলায় জামাতুল আনসারের আমির আনিছুর রহমান ওরফে মাহমুদ; কেএনএফের প্রধান নাথান বমসহ ৬৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি থানায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়েছে।

অভিযান শেষে শুক্রবার বান্দরবান জেলা পরিষদের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বান্দরবান ও রাঙামাটির দুর্গম এলাকায় কেএনএফের একাধিক প্রশিক্ষণশিবিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাওয়া ৫০ জনের বেশি জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। তাঁরা নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দিল শারক্বীয়ার সদস্য।

এসব জঙ্গির বিরুদ্ধে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার নেতৃত্বে র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১৫ রাঙামাটির বিলাইছড়ির সাইজাম পাড়া এবং তৎসংলগ্ন বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালায়।

তিনি বলেন, সেখান থেকে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দিল শারক্বীয়ার সাত সদস্য এবং কেএনএফের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ৯টি এসবিবিএল বন্দুক, ৫০টি গুলি, ৬২টি কার্তুজের খাপ, ৬টি বোমা (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস-আইইডি), একটি দেশি পিস্তল, একটি ওয়াকিটকি, প্রস্তাবিত কুকি-চিন স্টেট লেখা ১০টি মানচিত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ‘হিজরতের’ নামে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘর ছাড়াদের দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতে কেএনএফের সঙ্গে ২০২১ সালে তিন বছরের জন্য চুক্তি করে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দিল শারক্বীয়া। মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিময়ে এসব জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও আশ্রয় দিয়ে আসছিল কেএনএফ।

মামলায় জামাতুল আনসার ফিল হিন্দিল শারক্বীয়ার আমির আনিছুর রহমান ও ছয় সূরা সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। সূরা সদস্যরা হলেন মারুফ হোসেন, মোশারফ হোসেন, আবদুল্লাহ মায়মুন, মাসুকুর রহমান, শামীম মাহফুজ ভোলার শায়েখ ওরফে দাদু ভাই। তাঁদের মধ্যে সূরা সদস্য শামীম মাহফুজ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ ২০১১ সালে বিজিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানচি থানায় সন্ত্রাস বিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছিল।

মামলায় কেএনএফের প্রধান ছাড়া সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কেএনএফের চিফ অব স্টাফ ও সহসভাপতি ভাং চুং লিয়ান, মুখপাত্র মুইয়া ওরফে উইলস, আইন ও জনসংযোগ শাখার লালমুন ঠিয়ালা ওরফে কর্নেল সলোমান, মেডিকেল শাখার বমলুন সাং ওরফে লিউন, পররাষ্ট্র লিয়াজো শাখার পা মিং, লজিস্টিকস (রসদ) শাখার মেজর লারবাম মুই ওরফে জামপুই ও লজিস্টিকস (অস্ত্র ও ইউনিফর্ম) শাখার লাল সাং রেম ওরফে স্টুয়ার্ট।

র‍্যাব জানায়, হরকাতুল জিহাদ, জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এবং আনসার আল ইসলামের কিছু সদস্য মিলে ২০১৭ সালে নতুন করে উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৯ সাল থেকে তাঁরা জামাতুল আনসার ফিল হিন্দিল শারক্বীয়া নামে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। আমির মো. আনিছুর রহমান ওরফে মাহমুদের নেতৃত্বেই উগ্রবাদী সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে।

নতুন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে গত ২৩ আগস্ট কুমিল্লা থেকে আট কলেজছাত্র নিখোঁজ হন। কিছুদিন পর তাঁদের একজন ফিরে এলে এই আটজনের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে ‘হিজরতের’ নামে ঘর ছাড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এর কয়েক দিন পর কুমিল্লা শহরের কুবা মসজিদের ইমাম শাহ মো. হাবিবুল্লাহ আত্মগোপনে চলে যান। এরপর ৫ অক্টোবর সাতজনকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লার দুজনসহ নিখোঁজ চারজন ছিলেন।

বাকি তিনজন জঙ্গিদের সংগঠক ও আশ্রয়দাতা। এরপর ৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় আরও পাঁচজনকে। পরদিন ১০ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিরুদ্দেশ হওয়া ৩৮ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করে ও পাহাড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানোর কথা জানায়।