পুড়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২৮০৫টি ঘর, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫৯২৬ জন
![]()
নিউজ ডেস্ক
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ও ক্ষতির পরিমাণ জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। অগ্নিকাণ্ডে ১৫ হাজার ৯২৬ রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রবিবার (১২ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা প্রশাসকের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান। প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গত ৫ মার্চ উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে তিন হাজার ১১টি পরিবারের ১৫ হাজার ৯২৬ রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আগুনে দুই হাজার ৬৬৪ ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, আংশিক পুড়েছে ১৪১টি ঘর। সর্বমোট দুই হাজার ৮০৫টি ঘর পুড়েছে। এ ছাড়া দুই হাজার ৭৬৬টি অফিস, ১৫৫টি ওয়াস ফ্যাসিলিটিস, বাঁশের সিঁড়ি ও প্রটেকশন, ৭৬২টি এফসিএন, ১০৮২টি স্মার্টকার্ড পুড়ে গেছে। এতে ২১২ জন আহত হয়েছেন। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি আমরা। প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা, নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোসহ ১২টি সুপারিশ করা হয়েছে।’
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত উল্লেখ করে আবু সুফিয়ান বলেন, ‘তদন্ত করতে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলাপ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হয়েছি আমরা। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত ঘটনা।’
এর আগে গত ৫ মার্চ বিকালে উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় আগুন দ্রুত পার্শ্ববর্তী ৯ এবং ১০ নম্বর ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। তিন ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ানকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়। কমিটিতে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের প্রতিনিধি, এপিবিএন, জেলা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ছিলেন।