ভেনেজুয়েলার ঘটনা বদলে দিয়েছে চীনের হিসাব-নিকাশ

ভেনেজুয়েলার ঘটনা বদলে দিয়েছে চীনের হিসাব-নিকাশ

ভেনেজুয়েলার ঘটনা বদলে দিয়েছে চীনের হিসাব-নিকাশ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

একদিকে চীন–ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যু—এই দুটি বিষয় সামনে রেখে বেইজিংয়ের পরবর্তী কৌশল কী হতে পারে, তা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান। এই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের আটকের ঘটনায় চীন প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেও, বেইজিংয়ের বাস্তববাদী নীতিনির্ধারকেরা ঘটনাটিকে শুধু ক্ষতি হিসেবেই দেখছেন না। বরং চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরের মধ্য দিয়েই চীন তার পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করতে চাইছে।

চীন বিষয়ক গবেষক ও লেখক মাইকেল শেরিডান মনে করেন—চীনের কাছে এ ক্ষেত্রে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামরিক। যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করে, কারাকাসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একটি ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ পরিচালনা করল—তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে চীনের সামরিক নেতৃত্ব। যদিও ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল ছিল, তারপরও এই অভিযান চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির জন্য একটি বাস্তব উদাহরণ হয়ে গেছে। বিশেষ করে, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দ্বিতীয় প্রশ্নটি জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নিয়ে। মাদুরো সরকারের সঙ্গে চীনের চুক্তি অনুযায়ী, ঋণ পরিশোধের বিনিময়ে ভেনেজুয়েলা চীনকে স্বল্পমূল্যে তেল সরবরাহ করত। সরকারি হিসাবে, ভেনেজুয়েলার দৈনিক রপ্তানি করা তেলের একটি বড় অংশই যেত চীনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকার আশ্বাস দিলেও, মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে এই তেলচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়তে পারে বলে মনে করছে বেইজিং।

তৃতীয় প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে। চীন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এই ভাষ্য ব্যবহার করে চীন নিজেকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলোর পক্ষে একজন নৈতিক মুখপাত্র হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোর আটক থাকা চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলোর জন্য একটি প্রতীকী ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

চতুর্থ এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল প্রশ্নটি তাইওয়ান। চীন সরাসরি ভেনেজুয়েলার ঘটনার সঙ্গে তাইওয়ানকে যুক্ত না করলেও, বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। চীন তাইওয়ানকে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং তাইওয়ান পুনর্দখলকে অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই বিবেচনা করে। সেই অর্থে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান চীনের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা সহজ করে দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভেনেজুয়েলার ঘটনাটি চীনের জন্য তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক ধাক্কা হলেও, দীর্ঘ মেয়াদে এটি বেইজিংয়ের কৌশলগত চিন্তাকে নতুন দিশা দিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *