বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির গুলিতে কিশোরী নিহত, আহত ১

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির গুলিতে কিশোরী নিহত, আহত ১

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির গুলিতে কিশোরী নিহত, আহত ১

বাংলাদেশের টেকনাফ অঞ্চলের এলাকা আরাকান আর্মির দখলে, যা জানাল রিউমর স্ক্যানার

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এবং দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণের শব্দে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয়রা।

আজ রবিবার সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষের সময় মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশি এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। এসময় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজ রবিবার সকালে ৬৪-বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, ভোরের দিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে ওই কিশোরী নিহত নয়। মেয়েটির নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করছেন। সেইসঙ্গে টহল জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত হোয়াইক্যং সীমান্তের কাছে একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ এবং শত শত রাউন্ড গোলাগুলি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এপারের বাড়ি-ঘর কেঁপে ওঠে এবং ছোড়া গুলি চিংড়ি ঘের ও চাষের জমিতেও পড়েছে। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছে, রাতেও ও দিনের বেলায় বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, “সারারাত আমরা জেগে ছিলাম, একেকটি বিস্ফোরণে বাড়িঘর কেঁপে উঠছিল। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছিল।” আরেক বাসিন্দা মো. ছৈয়দ হোসেন জানান, “পরিস্থিতি ভয়াবহ, এপারের সাধারণ মানুষ অনিরাপদ মনে করছেন।”

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, “গত তিনদিন ধরে সীমান্তে দিনে-রাতে গোলাগুলি ও বোমার বিস্ফোরণ চলছে। ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ছে, মানুষের চিংড়ি ঘরে ও চাষের জমিতে ক্ষতি হচ্ছে।”

রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আরমান বলেন, “সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আরাকান আর্মির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হচ্ছে। আমি নিরাপদে পালিয়ে আসছি।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *