বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে ভারতের মন্তব্যে পাকিস্তানে কঠোর প্রতিক্রিয়া
![]()
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে ভারতের মন্তব্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটি ঢাকা–ইসলামাবাদ সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অযাচিত মন্তব্যও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদের সূত্রগুলো বলেছে, ঢাকা–ইসলামাবাদ সম্পর্কের ধরন ও পরিসর নির্ধারণে কোনও তৃতীয় দেশের মন্তব্য বা অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। এই ইস্যুতে ভারতের অবস্থানকে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান।
সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে ভারতের মন্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান–বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ নিয়ে ভারতের পর্যবেক্ষণের কোনও ভিত্তি নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো শনিবার সন্ধ্যায় দ্য নিউজকে জানায়, ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি বা পরিসর নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার ভারতের নেই। সূত্রগুলো বলেছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয় এবং এতে কোনও তৃতীয় দেশের স্বীকৃতি বা অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না।
সূত্রগুলো আরও জানায়, বাংলাদেশের সম্ভাব্য জেএফ-১৭ থান্ডার বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে ভারতের মন্তব্য পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক ও অযাচিত। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপেরই প্রতিফলন। এর আগে ভারত বলেছিল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তা তারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অগ্রগতির ওপর আমরা নিবিড় নজর রাখি’। ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া এবং ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহারের জন্য ভারতের অনুমতির প্রয়োজন হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বিদ্যমান ব্যবস্থার আওতাতেই পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আকাশ পরিবহন চুক্তি অনুযায়ী এসব বিষয় নিষ্পত্তি হবে।’
এ সময় ভারতের এই মুখপাত্র বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘এ ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর দ্রুত ও কঠোর সমাধান প্রয়োজন’। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আবারও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাই, যাতে ফলাফল বিশ্বাসযোগ্য হয়।’
উল্লেখ্য, ভারত নিজ ভূখণ্ডে বাংলাদেশের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। ঢাকার একটি আদালত ইতোমধ্যেই তাকে গুরুতর অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ তার সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের সময়ে তাদের কাছ থেকে ‘জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি’ যুদ্ধবিমান কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটির বিমান বাহিনী। এই যুদ্ধবিমানটি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ নামেও পরিচিত।
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, এই যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে তারা এখনও কোনও চুক্তিতে পৌঁছাননি, তবে ‘তারা কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে’। গত মঙ্গলবার পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সাথে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের বৈঠকে এ আলোচনা হয়।
এসময় পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান বাংলাদেশকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তার বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন। পাকিস্তান আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে সম্ভাব্য জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
এই যুদ্ধবিমানটি ৪.৫ প্রজন্মের একটি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান যা শক্তিশালী রাডার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত। এটি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ মিশনে অংশ নিতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সহায়তায় পাকিস্তান এই যুদ্ধবিমান তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। হালকা ওজনের এই যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা ২০১৯ সালে ও ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতের সাথে পাকিস্তানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সময়ে প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
পাকিস্তান ইতোমধ্যে সম্ভবত আজারবাইজার, মিয়ানমার ও নাইজেরিয়ার কাছে এই যুদ্ধবিমান বিক্রি করেছে। এছাড়া ইরাক ও লিবিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সাথে এই বিমান বিক্রি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।