রামগড়ে বসতঘর নির্মাণে বাধা ও হামলার অভিযোগ ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে মানববন্ধন
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলায় নিজ মালিকানাধীন ভূমিতে বসতঘর নির্মাণের সময় গভীর রাতে হামলা চালিয়ে নির্মাণাধীন ঘর ভেঙে গুটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রামগড় ইউনিয়নের খাগড়াবিল বাজার এলাকায় ‘রামগড় গুচ্ছ গ্রাম ভূমি রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতের আঁধারে রামগড় উপজেলার ১ নম্বর রামগড় ইউনিয়নের লালছড়ি এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেনের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলামের মালিকানাধীন জমিতে নির্মাণাধীন বসতঘরে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ সময় তারা ঘরটি ভেঙে ফেলে নির্মাণসামগ্রী গুটিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
রামগড় ভূমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. ইউনুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাঙালি জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নিজ ভূমিতে বসতঘর নির্মাণেও বাধা ও হামলার শিকার হতে হচ্ছে। অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে গুচ্ছগ্রামবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বক্তারা ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

দাবিগুলো হলো— গুচ্ছগ্রাম এলাকার গুচ্ছগ্রামবাসীদের সকল বেদখলকৃত ভূমি উদ্ধার, গুচ্ছগ্রামবাসীদের নিজ নিজ বসতভিটায় অবিলম্বে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, গুচ্ছগ্রাম এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা ক্যাম্প স্থাপন, বাদ পড়া গুচ্ছগ্রামবাসীদের তালিকা প্রণয়ন করে রেশন সুবিধা নিশ্চিত করা, গুচ্ছগ্রামবাসীদের স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার প্রদান এবং শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও স্যানিটেশনসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন রামগড় গুচ্ছ গ্রাম ভূমি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আহমদ, সদস্য আবুল কালাম, আলী হোসেন, মো. মোস্তফাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।