আসামে সহিংসতা ঠেকাতে সেনা মোতায়েন, দুই নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

আসামে সহিংসতা ঠেকাতে সেনা মোতায়েন, দুই নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

আসামে সহিংসতা ঠেকাতে সেনা মোতায়েন, দুই নিহতের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

আসামের কোকরাঝাড় জেলায় সাম্প্রতিক গণহিংসা, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, নতুন করে সহিংসতা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, মঙ্গলবার রাতে কড়িগাঁও ও আশপাশের এলাকায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে টহল দেয় সেনাবাহিনীর কলামগুলো। বুধবার আস্থা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ফ্ল্যাগ মার্চ পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে কোকরাঝাড় জেলায় সেনাবাহিনীর চারটি কলাম অবস্থান করছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী চিরাং জেলাতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। সহিংসতা শুরু হওয়ার পরই দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মাঠে নামানো হয়।

রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার গভীর রাতে কড়িগাঁও আউটপোস্টের কাছে মানসিং রোডে বডো সম্প্রদায়ের তিন সদস্য বহনকারী একটি গাড়ি দুই আদিবাসী ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়ির আরোহীদের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং অপরজন মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আহত আরও তিনজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন উভয় সম্প্রদায়ের লোকজন কড়িগাঁও আউটপোস্টের কাছে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। এ সময় টায়ারে আগুন দেওয়া হয়, একটি সরকারি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং স্থানীয় পুলিশ আউটপোস্টে হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে পুলিশ সদস্যসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন।

সহিংসতার আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বাসিন্দাদের জন্য কড়িগাঁও হাই স্কুল ও গ্বাজানপুরি আমানপাড়া হাই স্কুলে দুটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারায় কোকরাঝাড় জেলাজুড়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানো রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কোকরাঝাড় ও চিরাং জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট ও ডাটা পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাতিগত উত্তেজনা ও গণহিংসার ঘটনায় আসামের এই অঞ্চলটি অতীতেও বহুবার অস্থিরতার মুখে পড়েছে, ফলে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।