পাকিস্তান–তুরস্ক সামরিক সম্পর্কের নতুন গতি, রাওয়ালপিন্ডিতে দুই সেনাপ্রধানের বৈঠক

পাকিস্তান–তুরস্ক সামরিক সম্পর্কের নতুন গতি, রাওয়ালপিন্ডিতে দুই সেনাপ্রধানের বৈঠক

পাকিস্তান–তুরস্ক সামরিক সম্পর্কের নতুন গতি, রাওয়ালপিন্ডিতে দুই সেনাপ্রধানের বৈঠক
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সরকারি সফরে পাকিস্তান সফর করছেন তুরস্কের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল সেলচুক বাইরাকতারওগ্লু। বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (জিএইচকিউ) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরের সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সফরের শুরুতেই তুরস্কের সেনাপ্রধানকে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। সামরিক এই আনুষ্ঠানিকতাকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ, পেশাদার ও আস্থাভিত্তিক প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, উদ্ভূত কৌশলগত চ্যালেঞ্জ এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই পাকিস্তান–তুরস্ক সম্পর্কের বর্তমান ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্ক ইতিহাস, পারস্পরিক আস্থা এবং জনগণের গভীর বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তুরস্কের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং সামরিক অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, তুরস্কের সেনাপ্রধান জেনারেল সেলচুক বাইরাকতারওগ্লু উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, প্রশিক্ষণ, যৌথ সামরিক মহড়া এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে তুরস্ক দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই সফরটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোট গঠনের বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, তিন দেশের মধ্যে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাকিস্তানের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প সক্ষমতা এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তির সমন্বয় আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান–তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। যৌথ সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন, সেনাসদস্য বিনিময় কর্মসূচি এবং নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে তুরস্কের সহায়তা—বিশেষ করে কর্ভেট নির্মাণ প্রকল্প—এই সম্পর্কের বাস্তব উদাহরণ।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যৌথ ভূমিকা জোরদারে সহায়ক হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।