মিয়ানমারে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ আরও এক বছর বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র, নিষেধাজ্ঞা বহাল
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারে ঘোষিত ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পরপরই এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, “মিয়ানমারের পরিস্থিতি এবং মিয়ানমারকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য এখনো অস্বাভাবিক ও গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।” তিনি জানান, মিয়ানমারে সংলাপের অগ্রগতি ও সহিংসতা হ্রাসের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন হলে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় চাপের মাত্রা সমন্বয় করা হবে।
বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে জেট জ্বালানি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা এবং জান্তার সঙ্গে লেনদেনকারী একাধিক ব্যাংককে কালো তালিকাভুক্ত করা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার ও গণতন্ত্রপন্থী সংগঠন লস অ্যাঞ্জেলেস মিয়ানমার মুভমেন্ট (এলএ২এম)-এর প্রতিনিধি জেমস শুয়ে বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে লবিস্ট ও প্রচারকদের দাবির বিপরীতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জান্তার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না কিংবা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে না।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প একটি সরকারি ব্যয় বিলেও স্বাক্ষর করেন, যেখানে মিয়ানমারের জন্য ১২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার মানবিক সহায়তা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অর্থের কোনো অংশই সামরিক সরকারের হাতে যাবে না। ‘বার্মা অ্যাক্ট’-এর আওতায় অনুমোদিত এই সহায়তা থাইল্যান্ড ও ভারতের মাধ্যমে সীমান্তপথে মানবিক তৎপরতা, অপ্রাণঘাতী সহায়তা ও প্রশিক্ষণ, স্থানীয় শাসনব্যবস্থা ও ফেডারেল কাঠামো গঠনে সহায়তা, অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তায় ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ব্যয় বিলটি ২১৭ ভোটের পক্ষে ও ২১৪ ভোটের বিপক্ষে পাস হয়। পরে সিনেটে এটি অনুমোদন পায় ৭১ ভোটের পক্ষে ও ২৯ ভোটের বিপক্ষে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের মাধ্যমে মিয়ানমারে সহায়তা বন্ধ করলেও, নতুন এই বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে সেই সহায়তার একটি বড় অংশ পুনর্বহাল হলো।
প্রসঙ্গত, সামরিক অভ্যুত্থানের চার বছরের বেশি সময় পরও মিয়ানমারে রাজনৈতিক সংকট, সহিংসতা ও মানবিক পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে দেশটির সামরিক সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি জোরালো করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।