সাম্প্রদায়িক চাপের মুখে জিম ব্যবসায় ধস: মুসলিম বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে বিপাকে উত্তরাখণ্ডের দীপক কুমার

সাম্প্রদায়িক চাপের মুখে জিম ব্যবসায় ধস: মুসলিম বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে বিপাকে উত্তরাখণ্ডের দীপক কুমার

ভারতে মুসলিম ভারতে উগ্র গোষ্ঠীর হাত থেকে মুসলিম প্রবীণকে রক্ষা করে প্রশংসায় ভাসছেন যুবকনিপীড়ন: হিন্দুত্ববাদী মবের প্রতিবাদ করায় উল্টো যুবকের বিরুদ্ধেই মামলা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

এক মুসলিম বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়িয়ে সাম্প্রদায়িক হয়রানির প্রতিবাদ করায় চরম মূল্য দিতে হচ্ছে উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারের জিম প্রশিক্ষক দীপক কুমারকে। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই তার পরিচালিত ‘হাল্ক জিম’-এর সদস্য সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

কোটদ্বারের ভাড়াকৃত একটি ভবনে পরিচালিত হাল্ক জিমে একসময় প্রায় ১৫০ জন নিয়মিত সদস্য থাকলেও বর্তমানে দৈনিক উপস্থিতি নেমে এসেছে মাত্র ১৫ জনে। জিমের মালিক দীপক কুমার (৩৮) জানান, ২৬ জানুয়ারি তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত ৭০ বছর বয়সী মুসলিম দোকানি ভকিল আহমেদের পক্ষে দাঁড়ান, যাকে একদল লোক দোকানের নাম থেকে ‘বাবা’ শব্দটি বাদ দিতে চাপ দিচ্ছিল।

ঘটনার সময় নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে দীপক নিজেকে ‘মোহাম্মদ দীপক’ বলে উল্লেখ করেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এর জেরে ৩১ জানুয়ারি বজরং দলের একদল কর্মী দীপকের মুখোমুখি হতে জড়ো হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর কোটদ্বার শহরে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে জানান দীপক। একাংশ তার পাশে থাকলেও আরেক অংশ তার কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ। দীপকের ভাষ্য, “মানুষ ভালো কাজের জন্য হাততালি দেয় না। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোরও একটা মূল্য আছে।”

জিম ব্যবসার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে জিমটি চালাতে মাসে ৪০ হাজার রুপি ভাড়া দিতে হয়। তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই জিম। সম্প্রতি বাড়ি নির্মাণ করায় প্রতি মাসে ১৬ হাজার রুপি ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে হচ্ছে।

এদিকে রোববার ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর রাজ্যসভা সংসদীয় দলের নেতা জন ব্রিটাস কোটদ্বারে গিয়ে ভকিল আহমেদ ও দীপক কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে সিপিআই(এম) এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রদায়িক হুমকির কারণে ফাঁকা হয়ে পড়া জিমে ব্রিটাস সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন।

দলটির অভিযোগ, পুলিশ দীপকের বিরুদ্ধে মামলা করলেও দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

দীপক কুমার বলেন, “আমি এখনো মনে করি, আমি কোনো ভুল করিনি। শহরের বাইরের মানুষ সমর্থন জানাচ্ছেন, স্থানীয়দের মনোভাব বদলাতে সময় লাগছে।” পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ দীপক কুমারের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।

প্রসঙ্গত, ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে ব্যবসা ও ব্যক্তিজীবনে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ বাড়তে থাকায় নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।