বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো চীনের ভিটি-৫ ট্যাংকের নতুন বহর

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো চীনের ভিটি-৫ ট্যাংকের নতুন বহর

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হলো চীনের ভিটি-৫ ট্যাংকের নতুন বহর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো চীন থেকে আসা সর্বাধুনিক ভিটি-৫ হালকা ট্যাংকের নতুন একটি বহর। সম্প্রতি এই ট্যাংকগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বহরে আক্রমণাত্মক ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেল। আজ মঙ্গলবার ডিফেন্স ব্লগের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নতুন সরবরাহটি মূলত আগে থেকে থাকা ভিটি-৫ রেজিমেন্টকে আরও শক্তিশালী করবে। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৪৪টি এই ধরনের ট্যাংক সম্বলিত একটি রেজিমেন্ট কর্মরত ছিল।

এই ট্যাংকগুলো ১০৫ মিমি আধুনিক কামানে সজ্জিত, যা রাশিয়ার তৈরি টি-৯০ এর মতো শক্তিশালী প্রধান যুদ্ধ ট্যাংককেও মোকাবিলা করতে সক্ষম। এটি মূলত ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী এবং সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নদীমাতৃক এবং নরম মাটির ভূপ্রকৃতির জন্য ভিটি-৫ অত্যন্ত কার্যকর। ভারী ট্যাংকগুলো যেখানে যাতায়াতে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়, সেখানে ভিটি-৫ তার হালকা ওজন এবং উচ্চ গতিশীলতার কারণে সহজেই চলাচল করতে পারে। এটি সংকীর্ণ ব্রিজ বা দুর্গম এলাকাতেও মোতায়েনযোগ্য।

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ভারতের টি-৯০ ট্যাংকের তুলনায় ভিটি-৫ গতিশীলতা, সুরক্ষা এবং মারণক্ষমতার দিক থেকে বেশি সুবিধাজনক; যদিও এই ধরনের তুলনামূলক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। টি-৯০ মূলত একটি ভারী মেইন ব্যাটল ট্যাংক যা ভিন্ন ধরনের অপারেশনাল ভূমিকার জন্য তৈরি, অন্যদিকে ভিটি-৫ মূলত গতিশীলতা এবং মোতায়েনের নমনীয়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।বাংলাদেশ সংবাদ

এতে রয়েছে ডিজিটাল ব্যাটলফিল্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, থার্মাল ইমেজিং সাইট এবং আধুনিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, যা দিন ও রাত উভয় সময়ে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সাহায্য করে।

গত এক দশকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান এবং মিসাইল সিস্টেমের পর ভিটি-৫ ট্যাংকের এই নতুন বহর দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের গভীরতাকেই নির্দেশ করে। পশ্চিমা বা রুশ ভারী ট্যাংকের তুলনায় এই ট্যাংকের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি বাংলাদেশের জন্য সাশ্রয়ী ও কার্যকর একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভিটি-৫ হালকা ট্যাংকগুলো মূলত রেকি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং ফায়ার সাপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।