বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলার মধ্যেই থাই বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক মিন অং হ্লাইংয়ের
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারে প্রতিরোধ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা জোরদারের মধ্যেই বুধবার নেপিদোতে থাইল্যান্ডের বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং।
থাই বিমানবাহিনী প্রধান সাকেসান কানথা’র এই সফর এমন সময় হলো, যখন তার আগের দিনই রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত পোনাগিউন টাউনশিপের একটি বাজারে জান্তার যুদ্ধবিমান বোমা হামলা চালিয়ে ১৮ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এর দুই দিন আগে সাগাইং অঞ্চলের মিয়িনমু টাউনশিপে বিমান হামলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী এক শিশুসহ নয়জন নিহত হন।
জান্তা-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুই পক্ষের মধ্যে বিমানবাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ এবং বিস্তৃত সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মিন অং হ্লাইং তার বাহিনীকে মিয়ানমারে গণতন্ত্রায়নের “স্থায়ী অভিভাবক” হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি ডিসেম্বর-জানুয়ারির নির্বাচনকে “সফল” আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ভোটাররা বড় কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছেন।
তবে একই দিনে জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক পুংকেটকেও ভিন্ন সুরে বলেন, কেবল নির্বাচন আয়োজন করলেই মিয়ানমারের সংকটের সমাধান হবে না।
২০২১ সালে অং সান সুকির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পাঁচ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রহসন হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে মাত্র ২৬৫টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রত্যাশিতভাবেই সেনাসমর্থিত Union Solidarity and Development Party (ইউএসডিপি) জয় পায়।

থাই বিমানবাহিনী প্রধানকে ইয়াঙ্গুনের মিঙ্গালাডন বিমানঘাঁটিতে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি নেপিদোতে গিয়ে জান্তার বিমানবাহিনী প্রধান তুন অংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। জান্তা এটিকে “সৌজন্য সফর” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
জান্তা গণমাধ্যম জানায়, দুই দেশের বিমানবাহিনীর সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
গৃহযুদ্ধে জান্তা ক্রমেই সশস্ত্র জাতীয় বিদ্রোহ মোকাবিলায় বিমান হামলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মিন অং হ্লাইং একাধিকবার এই যুদ্ধে তার বিমানবাহিনীর “নির্ণায়ক ভূমিকা”র প্রশংসা করেছেন।
প্রতিবেশী দেশের একজন সামরিক প্রধানের এই সফরটি এমন সময় হয়েছে, যখন আগামী মার্চের মাঝামাঝি নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্ট বসার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও থাইল্যান্ড মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে দুই দেশের জেনারেলদের মধ্যে পারস্পরিক সফর অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি সিহাসাক ফুকেটে জান্তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান শোয়ের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন, যেখানে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। থাই গণমাধ্যম জানায়, সিহাসাক থাই সীমান্তবর্তী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন। তবে তিনি বলেন, এই বৈঠককে জান্তার নির্বাচনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা উচিত নয়। তিনি জানান, থাইল্যান্ড আসিয়ানের পাঁচ দফা ঐকমত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া উৎসাহিত করতে এবং বেসামরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কমাতে চায়।
নির্বাচন-পরবর্তী থাইল্যান্ডের কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেশটির রাষ্ট্রদূত জান্তা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং এক থাই সেনা জেনারেল জান্তার দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা সোয়ে উইনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
সীমান্ত এলাকায় দুই দেশ মিয়াওয়াড্ডিতে আন্তঃসীমান্ত অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গেটগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।