ড্রোনের দাপটে মিন কোনে দখল, তাগাউং পুনর্দখলে জান্তার একমাসের অভিযান জোরদার

ড্রোনের দাপটে মিন কোনে দখল, তাগাউং পুনর্দখলে জান্তার একমাসের অভিযান জোরদার

ড্রোনের দাপটে মিন কোনে দখল, তাগাউং পুনর্দখলে জান্তার একমাসের অভিযান জোরদার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সেনারা মান্দালয়–ভামো সড়কের তাগাউং শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত মিন কোনে গ্রাম দখল করেছে। অঞ্চলটির শেষ প্রতিরোধ-নিয়ন্ত্রিত শহর পুনর্দখলের লক্ষ্যে জান্তা বাহিনী এক মাস ধরে যে অভিযান চালিয়ে আসছে, তার ধারাবাহিকতায় এ দখল ঘটে।

একজন প্রতিরোধযোদ্ধা নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানত জান্তা বাহিনীর ব্যাপক ড্রোন ব্যবহারের কারণে তারা মিন কোনে গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। তিনি দ্য ইরাবতীকে বলেন, প্রায় এক মাস ধরে জান্তা বাহিনী অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে, তবে তারা প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারেনি। কিন্তু বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে এলাকা পরিষ্কার করায় শেষ পর্যন্ত মিন কোনে থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে।

ইরাবতী নদীর তীরে, মান্দালয় অঞ্চলের সর্বউত্তর প্রান্তে অবস্থিত তাগাউং শহরটি সাগাইং অঞ্চল ও কাচিন রাজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চীনের সহায়তায় স্থাপিত একটি নিকেল কারখানার নিয়ন্ত্রণও এখান থেকেই হয়, যা এলাকাটিকে জান্তা সরকারের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্যে পরিণত করেছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি জান্তা সরকার উত্তরের দিকে অগ্রযাত্রা শুরু করে। টুইন ঙে এলাকায় অবস্থিত ট্রেনিং স্কুল নম্বর ১৩ থেকে ভারী ড্রোন সহায়তায় সেনা কলাম তাগাউংয়ের দিকে অগ্রসর হয়। এই অভিযানের ফলে শহরের দক্ষিণের গ্রামগুলো থেকে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

প্রতিরোধের নেতৃত্ব দিচ্ছে পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) মান্দালয় জেলা ব্যাটালিয়নসমূহ, যাদের সহায়তা করছে কিয়াউকসে জেলা ইউনিট ও স্থানীয় যোদ্ধারা।

একজন সামরিক বিশ্লেষক জানান, জান্তা বাহিনীর উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তাগাউং থেকে সড়কপথ খুলে যায় মিয়াদাউং, তিগিয়াইং, ইন্দাও ও কাথা এলাকার দিকে। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী জোরালোভাবে অগ্রসর হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ বাহিনীকে হয়তো পিছু হটতে হতে পারে। নিকেল কারখানা পুনর্দখল তাদের বড় অগ্রাধিকার।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বহু মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বেইজিং জান্তা সরকারকে চাপ দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রতিরোধ বাহিনী তাগাউং শহর দখল করে নেয়। একই সঙ্গে তারা তিগিয়াইং টাউনশিপে অবস্থিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল ও নিকেল কারখানার নিয়ন্ত্রণও নেয়।

নিকেল প্রকল্পটি ২০০৮ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না ননফেরাস মেটাল মাইনিং (সিএনএমসি) এবং মিয়ানমারের নম্বর ১ মাইনিং এন্টারপ্রাইজের মধ্যে ২০ বছরের যৌথ চুক্তির আওতায় চালু হয়।

৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি মিয়ানমারের বৃহত্তম নিকেল খনি। এর বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ৮৫ হাজার টন ফেরোনিকেল। একই সঙ্গে এটি সিএনএমসির বৃহত্তম একক বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবেও পরিচিত।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

You may have missed