মিয়ানমারের বাগোতে জান্তার অস্ত্র কারখানার দিকে অগ্রসর হচ্ছে আরাকান আর্মি

মিয়ানমারের বাগোতে জান্তার অস্ত্র কারখানার দিকে অগ্রসর হচ্ছে আরাকান আর্মি

মিয়ানমারের বাগোতে জান্তার অস্ত্র কারখানার দিকে অগ্রসর হচ্ছে আরাকান আর্মি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের বাগো অঞ্চলের পশ্চিমাঞ্চলের পদাউং টাউনশিপে অবস্থিত জান্তা সরকারের অস্ত্র কারখানা নং–১৬ এর সামনে অগ্রসর হচ্ছে রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) ও তাদের মিত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো।

বৃহস্পতিবার এএ এবং পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ) ওই কারখানার বাইরে জান্তা বাহিনীর বিভিন্ন আউটপোস্টে স্থল আক্রমণ চালায়। রাখাইনের গণমাধ্যম ওয়েস্টার্ন নিউজ সম্মুখসারির প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সূত্র উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, অভিযানে জান্তা বাহিনীর কয়েকটি আউটপোস্ট দখল করা হয়েছে এবং সেখান থেকে অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। তবে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেওয়া জান্তা সেনারা ভারী বিস্ফোরক ব্যবহার করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

খবরে বলা হয়, আউটপোস্টগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ পাওয়া সেনাদের অনেকেই অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।

শুক্রবার সকাল পর্যন্তও স্থল সংঘর্ষ চলছিল বলে জানিয়েছেন সামরিক বাহিনী থেকে পালিয়ে আসা সদস্য জিন ইয়াও, যিনি বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বার্মিজ ভাষায় কাপাসা–১৬ (KaPaSa 16) নামে পরিচিত এই কারখানায় মূলত ভারী বিস্ফোরক ও গোলাবারুদের জন্য ব্যবহৃত গানপাউডার উৎপাদন করা হয়। তবে চলমান প্রতিরোধ অভিযানের কারণে কারখানাটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

প্রতিরোধ বাহিনী সোমবার থেকেই ভারী বিস্ফোরক দিয়ে কারখানাটিতে গোলাবর্ষণ শুরু করে। এতে কারখানা চত্বরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য অক্ষত রাখার পরিবর্তে কারখানাটি ধ্বংস করাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।

জিন ইয়াও বলেন, “চারপাশে অবিরাম যুদ্ধ চলার মধ্যে কারখানাটি চালু রাখা সম্ভব নয়। এটিকে ধ্বংস করা গেলে জান্তা বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগবে।”

পদাউং টাউনশিপ বর্তমানে আরাকান আর্মির যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে এএ ও তাদের মিত্ররা টাউনশিপের নিয়াউংইয়ো এলাকায় অবস্থিত কৌশলগত পয়েন্ট–৬৬৬ পাহাড়চূড়ার ঘাঁটি দখল করে নেয়, যা ওই অস্ত্র কারখানাটিকে সুরক্ষা দিত। পরে ঘাঁটিটি পুনর্দখলের চেষ্টা করতে গিয়ে জান্তা বাহিনীর ইউনিটগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে।

২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নিজ রাজ্য রাখাইনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে আরাকান আর্মি ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি এবং পাশের চিন রাজ্যের পালেতওয়া টাউনশিপ দখলে নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ সীমান্তের পুরো অংশ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এরপর থেকে তারা মাগওয়ে, বাগো এবং আইয়ারওয়াডি অঞ্চলেও তাদের সামরিক অভিযান বিস্তৃত করেছে। একই সঙ্গে নিজ রাজ্যের অবশিষ্ট জান্তা ঘাঁটি সিত্তে ও কিয়াউকফিউ শহরের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে মাগওয়ে অঞ্চলের এনগাপে টাউনশিপে আন–পাদান সড়কের ওপর অবস্থিত কৌশলগত নাত ইয়েই কান বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি রক্ষাকারী জান্তা বাহিনীর একটি আউটপোস্টও দখল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তবে শুক্রবার পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।