ডায়াবেটিক ফুট ও সেলুলাইটিস রোগে আক্রান্ত মনিকা চাকমার পরিবারে আশার আলো

ডায়াবেটিক ফুট ও সেলুলাইটিস রোগে আক্রান্ত মনিকা চাকমার পরিবারে আশার আলো

ডায়াবেটিক ফুট ও সেলুলাইটিস রোগে আক্রান্ত মনিকা চাকমার পরিবারে আশার আলোদুর্গম পাহাড়ে অসুস্থ গৃহিণী মনিকা চাকমার পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ ইন্দ্রসিংপাড়ায় অসুস্থ এক গৃহিণীর চিকিৎসায় এগিয়ে এসে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়ে চলাচল অক্ষম অবস্থায় থাকা মনিকা চাকমার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়নের লক্ষীছড়ি জোন।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ইন্দ্রসিংপাড়া একটি প্রত্যন্ত গ্রাম, যেখানে আধুনিক অবকাঠামোর ছোঁয়া এখনও পৌঁছায়নি। উপজেলা সদর হতে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরত্ব হলেও সেখানে পৌঁছাতে হয় পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে; নেই কোনো যান চলাচলের উপযোগী সড়ক, নেই বিদ্যুৎ কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা।

ডায়াবেটিক ফুট ও সেলুলাইটিস রোগে আক্রান্ত মনিকা চাকমার পরিবারে আশার আলো
ডায়াবেটিক ফুট ও সেলুলাইটিস রোগে আক্রান্ত মনিকা চাকমার পায়ের চিত্র।

এমন প্রতিকূল পরিবেশে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে জীবনযাপন করলেও তাদের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

এই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই দুর্গম ইন্দ্রসিংপাড়া-শুকনাছড়ি এলাকার বাসিন্দা লিমন চাকমা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোন। লিমনের স্ত্রী মনিকা চাকমা দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ডায়াবেটিক ফুট ও সেলুলাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোগের কারণে তিনি প্রায় চলাচল অক্ষম হয়ে পড়েছেন এবং তাকে সুস্থ করে তুলতে জরুরি অস্ত্রোপচারসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু দরিদ্র লিমন চাকমার পক্ষে সেই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

অসহায় পরিস্থিতিতে লিমন চাকমা ইন্দ্রসিংপাড়া আর্মি ক্যাম্পের মাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানান লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়কের কাছে। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক উদ্যোগ নেন লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তাজুল ইসলাম।

আজ রবিবার (১৫ মার্চ) লক্ষীছড়ি জোন সদর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে এই সেনা কর্মকর্তা অসহায় লিমন চাকমার হাতে চিকিৎসা সহায়তার অনুদানের অর্থ তুলে দেন। এ সময় তিনি মনিকা চাকমার সুস্থতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।

এই মানবিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিমন চাকমা। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও লক্ষীছড়ি জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ইন্দ্রসিংপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষও এ উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে অনেক সময় মৌলিক চিকিৎসা সেবাও নাগালের বাইরে থাকে, সেখানে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক সহায়তা অসহায় মানুষের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়ায়।

উল্লেখ্য, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ভবিষ্যতেও মানুষের দুঃসময়ে পাশে থেকে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।