দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক ম্রাসাথোয়াই মারমার স্বেচ্ছা অবসর
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্টেন্ট) ম্রাসাথোয়াই মারমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠার মধ্যেই তাকে স্বেচ্ছায় অবসর প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে জেলায় নতুন করে আলোচনা ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের এক অফিস আদেশে জানানো হয়, ম্রাসাথোয়াই মারমার নিজস্ব আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৪ অনুযায়ী তাকে আগামী ১ মার্চ ২০২৬ থেকে এক বছরের অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ব্যতীত স্বেচ্ছায় অবসর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী তিনি ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ল্যাম্পগ্র্যান্টসহ আনুতোষিক সুবিধা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। অভিযোগটি দাখিল করেন গুইমারা উপজেলার ৫১ নম্বর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা আনু মারমা।
অভিযোগে বলা হয়, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে তৃতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে যোগদান করলেও বর্তমানে ম্রাসাথোয়াই মারমা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তার আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে এত সম্পদ অর্জন করেছেন যে ইতোমধ্যে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, তদন্তের আবেদন
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি খাগড়াছড়ি জেলায় নিজ মালিকানাধীন দুটি নোহা গাড়ি ব্যবহার করেন এবং ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি গড়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একসময় ভূমিহীন থাকলেও বর্তমানে তার শত শত একর জমি রয়েছে। পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০ একর জমিতে রাবার ও ফলজ বাগান, কংচাইরী পাড়া এলাকার মায়াবিনী লেকে প্রায় ৭০ একর জমি, খাগড়াছড়ি সদর এলাকার নিউজিল্যান্ড রোডে ১০ শতক জমি, গুইমারার যৌথখামার এলাকায় প্রায় ৫ একর জমি এবং স্বনির্ভর বাজার এলাকায় একটি প্লট থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, নিজের নামে সম্পদ না রেখে তিনি পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের নামে এসব সম্পত্তি নিবন্ধন করেছেন। তার স্ত্রী চিংস্রাউ মারমার নামে খাগড়াছড়ি বাজার এলাকায় ‘হিল হেভেন’ নামে ছয়তলা একটি হোটেল এবং গোলাবাড়ি এলাকায় ছয়তলা একটি আবাসিক ভবনের মালিকানা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট জমিগুলোর খতিয়ান ও দাগ নম্বরও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগকারী দাবি করেন, জেলা পরিষদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন যুবকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
সূত্র জানায়, তিনি ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আসীন হওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং এ লক্ষ্যে চাকরি থেকে পদত্যাগের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই তার স্বেচ্ছা অবসরের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ম্রাসাথোয়াই মারমার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগের বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ থাকা অবস্থায় একজন সরকারি কর্মচারীর স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ এবং পরবর্তী আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।