ভারতের মণিপুরে যৌথ অভিযানে বাংকার ধ্বংস, অস্ত্র উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তার
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলোতে চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজ্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পৃথক ও সমন্বিত অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এসব অভিযানে সংঘাতপ্রবণ এলাকায় স্থাপিত বাংকার ধ্বংস, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাংকার ধ্বংস ও সংঘাত প্রশমনের উদ্যোগ
সরকারি সূত্র জানায়, উখরুল জেলার লিতান থানার আওতাধীন লেংগিয়াংচিং ও মংকট চেপু গ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উভয় পক্ষের নির্মিত একাধিক সুরক্ষিত বাংকার শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয় এবং অকার্যকর করে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে এসব বাংকার ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযানস্থল থেকে বিপুল সংখ্যক ব্যবহৃত কার্তুজও উদ্ধার করা হয়, যা পূর্ববর্তী সংঘর্ষের তীব্রতার ইঙ্গিত দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব বাংকার অপসারণ উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে সশস্ত্র সংঘর্ষ প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
অভিযানের পর থেকে এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনী টহল জোরদার এবং কৌশলগত মোতায়েনের মাধ্যমে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
আসামি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার
একই দিনে পৃথক অভিযানে মণিপুর পুলিশ থৌবল জেলার কাবারাস্তান ইয়ারিপোক বামন লেইকাই এলাকার বাসিন্দা মো. শানজিত খান (৩৮)-কে তেংনৌপাল জেলার সীমান্ত শহর মোরে থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেনাপতি থানায় দায়ের করা একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যদিও বিস্তারিত তদন্তাধীন।

অন্যদিকে, কাংপোকপি জেলার নিউ কিথেলমানবি থানার আওতাধীন টিংখাই খুল্লেন ও নেপালি খুত্তি এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে—
- একটি ৯ মিমি কারবাইনসহ ম্যাগাজিন
- দুটি দেশীয় ৯ মিমি পিস্তল ও চারটি ম্যাগাজিন
- একাধিক দেশীয় রাইফেল, যার মধ্যে তিনটি সিঙ্গেল-ব্যারেল বোল্ট-অ্যাকশন এবং দুটি সিঙ্গেল-ব্যারেল পুল মেকানিজম রাইফেল
- দুটি ইম্প্রোভাইজড মর্টার, যা উচ্চমাত্রার ধ্বংসক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়
এছাড়া সাতটি ১২-বোর কার্তুজ, বিভিন্ন ক্যালিবারের ৫৫ রাউন্ড গুলি এবং প্রায় দুই কেজি পেলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার ও তদন্ত অব্যাহত
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব উদ্ধার কার্যক্রম প্রমাণ করে যে সংবেদনশীল এলাকায় এখনো অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি রয়েছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলছে।
প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, মণিপুরের সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতে সহিংসতা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।