মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের চারদিন পর জনসমক্ষে মিন অং হ্লাইং, জ্বালানি সংকট নিয়ে বৈঠক
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের মাত্র চারদিন পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে হাজির হন। নেপিদোতে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করে তিনি তার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার ইঙ্গিত দেন।
গত ২০ মার্চ নেপিদোর এক হাজার শয্যার সামরিক হাসপাতালে তার দুই ঘণ্টার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এ অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন ভারত থেকে আনা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
সোমবার জান্তা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বয়সজনিত কারণে সৃষ্ট লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস ও স্পাইনাল স্টেনোসিস—যা মেরুদণ্ডের নিচের অংশে ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা—এর চিকিৎসা হিসেবে এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় ও সামরিক দায়িত্বে ফিরে এসেছেন।
তবে এ খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, সরকার যে রোগের কথা বলছে, সেটি কি আরও গুরুতর কোনো অসুস্থতা আড়াল করার চেষ্টা।
কেউ কেউ ধারণা করেন, সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিন অং হ্লাইংকে আসন্ন নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে আড়ালে রাখা হয়েছিল। গুজবের মধ্যে হাড়ের ক্যানসার থেকে শুরু করে জোরপূর্বক অবসর—বিভিন্ন আলোচনা চলছিল। তবে দ্রুত জনসমক্ষে তার উপস্থিতি এসব গুজব থামানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে মিন অং হ্লাইং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, যাতে জ্বালানি সংকটের কারণে ঐতিহ্যবাহী থিংগ্যান বা নববর্ষ উৎসব ব্যাহত না হয়। তিনি যানবাহননির্ভর শোভাযাত্রার পরিবর্তে দেশের সড়কগুলোতে “হাঁটা জলকেলি” আয়োজনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গত বছরের মতো এবারের উৎসব সীমাবদ্ধ করা যাবে না। গত বছর ২৮ মার্চ মধ্য মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উৎসব ছোট পরিসরে আয়োজন করা হয়েছিল। এবার দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট থাকলেও থিংগ্যান যেন “সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়”—সে নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন রেশনিং ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার কারণে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এসব পরিস্থিতির মধ্যেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বুধবার জানিয়েছে, নেপিদোসহ দেশজুড়ে “উৎসবমুখর” পরিবেশে থিংগ্যান উদযাপন করা হবে।
চলতি বছরের এই উৎসব রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ দীর্ঘ ছুটির এই সময়েই নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে, যেখানে মিন অং হ্লাইং আবারও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশ যখন দারিদ্র্য ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে আরও নিমজ্জিত হচ্ছে, তখন এই উৎসবের মাধ্যমে সামরিক সরকার একটি স্বাভাবিক ও আনন্দমুখর পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।