এশিয়া হাইওয়ে পুনরায় খুলতে কারেন রাজ্যে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে মিয়ানমার জান্তা

এশিয়া হাইওয়ে পুনরায় খুলতে কারেন রাজ্যে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে মিয়ানমার জান্তা

এশিয়া হাইওয়ে পুনরায় খুলতে কারেন রাজ্যে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে মিয়ানমার জান্তা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

থাইল্যান্ড সীমান্ত পর্যন্ত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ এশিয়া হাইওয়ে পুনরায় চালু করতে কারেন রাজ্যে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। নতুন করে শুরু হওয়া এই অভিযান কককারেইক এলাকাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি এমন সময় শুরু হলো, যখন জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি থাই সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ফ্রন্টলাইন সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জান্তা বাহিনী কিয়োনেদো এলাকায় অবস্থানরত লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন ৫৪৫ ও ৫৪৬, নাবু এলাকায় ৫৪৭, ৫৪৮ ও ৫৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং কককারেইকে ১২ নম্বর মিলিটারি অপারেশনস কমান্ডে অতিরিক্ত সেনা ও গোলাবারুদ মোতায়েন করেছে। এসব শক্তিবৃদ্ধি হপা-আন ও মাওলামিয়াইন থেকে পাঠানো হয়েছে।

তাদের লক্ষ্য হলো আগামী এপ্রিলের শুরুতেই এশিয়া হাইওয়ে চালু করা, যখন নেপিদোতে একটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, কককারেইক শহরের কাছাকাছি পুরনো কককারেইক-মিয়াওয়াদি সড়কের প্রতিরোধ অবস্থানের নিকটবর্তী দুটি গ্রামের আশপাশে প্রতিদিনই সংঘর্ষ তীব্রতর হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এখন প্রতিদিনই গোলাগুলি ও আর্টিলারির শব্দ শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি অনেক বেশি তীব্র হয়েছে। বিমান হামলাও বেড়েছে। সেদিনই দুইটি যুদ্ধবিমান এসে বোমা হামলা চালায়।”

কারেন যোদ্ধারাও নিশ্চিত করেছেন যে, কককারেইকের উত্তরে প্রতিরোধ অবস্থানের দিকে জান্তা বাহিনীর কলামগুলো অগ্রসর হচ্ছে এবং তাদেরকে বিমান হামলার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে থাইল্যান্ড এই সড়কটি দ্রুত পুনরায় চালু দেখতে আগ্রহী, কারণ এটি বন্ধ থাকায় সীমান্ত বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বিকল্প পথে বাণিজ্য পরিচালনায় অতিরিক্ত ব্যয় ও ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

এশিয়া হাইওয়ে পুনরায় খুলতে কারেন রাজ্যে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে মিয়ানমার জান্তা

মিয়াওয়াদিতে কারেন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, “থাইল্যান্ড জান্তার সঙ্গে আলোচনা করছে এবং কারেন গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও সমন্বয় করছে। হাইওয়ে পুনর্দখলে জান্তার হঠাৎ উদ্যোগ এই আলোচনার সঙ্গেই সরাসরি সম্পর্কিত।”

গত সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন মিত্র কারেন বর্ডার গার্ড ফোর্সের (বিজিএফ) সহায়তায় জান্তা বাহিনী এশিয়া হাইওয়ের কিছু অংশ ও থিংগানিনাউং ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছিল। তবে কককারেইকের কাছে হাইওয়ের উত্তরাংশ এখনো কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) ও তাদের মিত্র পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সেনাবাহিনী থেকে বিচ্যুত সদস্য সোয়ে তাও বলেন, জান্তা বাহিনী ১ এপ্রিলের মধ্যে হাইওয়ে খুলতে চায়, তবে এটি সহজ হবে না। তিনি বলেন, “থাইল্যান্ড যদি কেএনইউর ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে, তবেই এটি সম্ভব হতে পারে। তাছাড়া এলাকা পাহাড়ি ও বিস্তৃত—এই সময়সীমার মধ্যে সব এলাকা পরিষ্কার করা জান্তার পক্ষে সম্ভব নয়।”

সম্প্রতি থাইল্যান্ডের সঙ্গে জান্তার যোগাযোগ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে থাই সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল উক্রিস বুনতাননোন্দা নেপিদোতে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পরপরই থাই সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের একাধিক সফর অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যাংকক বর্তমানে মিয়াওয়াদি সীমান্ত এলাকায় গড়ে ওঠা প্রতারণা কেন্দ্রগুলো দমনে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে এবং একই সঙ্গে বহু বিলিয়ন বাথের সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে আগ্রহী।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *