শহীদ লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বীর উত্তম’র ৫৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ

শহীদ লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বীর উত্তম’র ৫৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ

শহীদ লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বীর উত্তম’র ৫৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শহীদ লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বীর উত্তম-এর ৫৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনদিকে স্মরণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দিনদিকে স্মরণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে সংঘটিত সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে তিনি ছিলেন প্রথম শহীদ সামরিক কর্মকর্তা। ১ ইস্ট বেঙ্গল (সিনিয়র টাইগারস) রেজিমেন্টের এই অকুতোভয় কর্মকর্তা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

১৯৪৭ সালের ৫ মে চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তিতে জন্মগ্রহণ করেন আনোয়ার হোসেন। তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অধ্যয়নরত অবস্থায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালে যশোর সেনানিবাসে অবস্থানরত এই ইউনিটটিকে কৌশলে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়, যাতে ২৫ মার্চের গণহত্যার খবর তারা না পায়। তবে ৩০ মার্চ সকালে পাকিস্তানি বাহিনী যখন ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অস্ত্রাগার দখলের চেষ্টা চালায়, তখন বাঙালি সৈনিকরা আত্মরক্ষার্থে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

এ সময় ক্যাপ্টেন হাফিজ ও লেফটেন্যান্ট আনোয়ার হোসেন বিদ্রোহী সৈনিকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী এই তীব্র লড়াইয়ে গোলাবারুদ সংকট দেখা দিলে বাঙালি সৈনিকরা কৌশলগতভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে চৌগাছার দিকে সরে যেতে শুরু করে।

এই অসম ও অপ্রস্তুত যুদ্ধে শত্রুপক্ষের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন লেফটেন্যান্ট আনোয়ার হোসেন। পরে তিনি বীরোচিতভাবে শহীদ হন। সহযোদ্ধারা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে হয়বতপুর গ্রামে নিয়ে যান এবং স্থানীয়দের সহায়তায় নজরুল ইসলাম কলেজের সামনে তাঁকে দাফন করা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। তাঁর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ঢাকার সেনানিবাস এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শহীদ বীর উত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজ।

উল্লেখ্য, সেই প্রাথমিক প্রতিরোধ যুদ্ধে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রায় ৪০ জন বাঙালি সৈনিক শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগই পরবর্তীতে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধকে আরও বেগবান করে এবং স্বাধীনতার পথে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *