বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব: বান্দরবানে এবার অনিশ্চয়তায় মারমাদের সাংগ্রাই উৎসব
![]()
নিউজ ডেস্ক
উৎসবের রং এখনো চাপেনি। ঢোলের বাদ্যি এখনো বাজেনি। আর মাত্র দু’সপ্তাহ পরেই রাজারমাঠ মুখরিত হওয়ার কথা মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসবে— সাংগ্রাইয়ে। কিন্তু প্রস্তুতির চেয়ে এখন বেশি শোনা যাচ্ছে বিবাদের গুঞ্জন।
কারণটা রাজনৈতিক। বিএনপি-সমর্থিত দুটি পৃথক কমিটি একই দিনে, একই মাঠে সাংগ্রাই উদ্যাপনের ঘোষণা দিয়েছে। দলের ভেতরকার এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন আছড়ে পড়েছে বান্দরবানের মারমা সমাজের সাংস্কৃতিক উৎসবে। ফল? উৎসবের মাসখানেক আগেও দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি নেই, আছে শুধু অনিশ্চয়তা আর সংঘাতের আশঙ্কা।
আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে চার দিনব্যাপী সাংগ্রাইং উৎসব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত এক মাসের বেশি সময় ধরে এই উৎসবের প্রস্তুতি চলে। কিন্তু দুই কমিটির দ্বন্দ্বের কারণে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি দেখা যায়নি।
গত বছর সাংগ্রাই আয়োজনের জন্য দু’বছর মেয়াদি একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। সভাপতি হন চ নু মং মারমা। কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু চলতি মার্চের ১২ তারিখে আচমকাই জন্ম নিল আরেকটি কমিটি— এবার সভাপতির আসনে রাজপুত্র চ থুই প্রু।
দুই কমিটি, দুই সভাপতি, অথচ গন্তব্য এক— রাজারমাঠ। আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে চার দিনব্যাপী সাংগ্রাই উৎসব শুরুর কথা। একই সময়ে একই মাঠে দুই কমিটির উপস্থিতি মানে কী, সেটা বুঝতে বেগ পাচ্ছেন না বান্দরবানের বাসিন্দারা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এগিয়ে এসেছেন মারমা সম্প্রদায়ের সুশীল সমাজের ৫৮ জন প্রতিনিধি। গত ২৩ মার্চ দুই কমিটিকেই লিখিত চিঠি পাঠিয়ে তাঁরা আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে স্পষ্ট সতর্কবার্তা— একই সময়ে দুই কমিটির উদ্যোগে উৎসব হলে বিভ্রান্তি ও সামাজিক বিভাজনের আশঙ্কা রয়েছে। দাবি উঠেছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কমিটি গঠনের।
কিন্তু সেই আহ্বানে কান দেয়নি কোনো পক্ষ।
মানবাধিকারকর্মী ও চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের একজন অং চ মং মারমা হতাশার সুরে বললেন, “দু’বছরের কমিটি থাকতেও নতুন কমিটি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলেই আমরা দু’পক্ষকে আলোচনায় বসতে বলেছিলাম।”
আরেক স্বাক্ষরকারী, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থোয়াইংচপ্রু মাস্টার জানালেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সাড়া আসেনি।
পুরোনো কমিটির সভাপতি চ নু মং মারমা বললেন, “আমরা আলোচনার পক্ষে। কেউ উদ্যোগ নিলে স্বাগত জানাব।” কথাটা আশার, তবে উদ্যোগ নিতে তিনি নিজে এগিয়ে আসেননি।
নতুন কমিটির সভাপতি চ থুই প্রু-র যুক্তি ভিন্ন। তাঁর মতে, “সরকার বদলালে কমিটিও বদলায়— এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। এই কমিটি হয়েছে সংসদ সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায়। সমস্যা থাকলে তাঁর মাধ্যমে আলোচনা করেই সমাধান হবে।”
দুই পক্ষই বারবার যাঁর নাম নিচ্ছেন, সেই বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী অবশ্য বিষয়টিকে সহজভাবেই দেখছেন। তাঁর কথায়, “পাল্টাপাল্টি কমিটি বলে কিছু নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের কমিটি ছিল, এখন নতুন সরকারের সময়ে নতুন কমিটি হয়েছে। উৎসব আয়োজন নিয়ে বসার দরকার হলে কমিটি বসবে— এটা তাদের বিষয়।”
কিন্তু কমিটি যখন নিজেই বিভক্ত, তখন ‘তাদের বিষয়’ বলে সরে থাকা কতটা সমাধান আনবে, সে প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বান্দরবানে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।