থানচিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রশমনে বিজিবির বিচক্ষণতা: সংঘাত এড়িয়ে ফিরলো স্বাভাবিক পরিস্থিতি
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও গণপিটুনির আশঙ্কা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। সময়োপযোগী পদক্ষেপ, ধৈর্যশীল আচরণ এবং পেশাদার কৌশলের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বিজিবির বলিপাড়া জোন (৩৮ বিজিবি)।
আজ রবিবার (২৪ মে) বলিপাড়া জোনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল শনিবার (২৩ মে) রাতে থানচি উপজেলায় স্থানীয় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই এলাকার বিজয় বড়ুয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে আটক করে থানচি থানায় সোপর্দ করে।
তবে থানায় আইনগত প্রক্রিয়া চলাকালীন একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালায়। তারা স্থানীয় জনগণকে উসকানি দিয়ে অভিযুক্তকে থানা হেফাজত থেকে বের করে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি তোলে। একপর্যায়ে থানচি থানা ঘেরাও করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছিল এবং সেখানে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও প্রতিশোধমূলক সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দেয়। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ারও চেষ্টা চলছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এমন পরিস্থিতিতে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত ধৈর্য, বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা, আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত সংযত আচরণ করেন এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দেন। তারা একদিকে যেমন থানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও উদ্বেগও গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে জোন অধিনায়ক নিজেই থানায় উপস্থিত হন। থানায় গিয়ে তিনি ধর্ষণের শিকার শিশুটির মা-বাবা ও স্থানীয় গন্যমান্যদের সাথে কথা বলেন এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের বিষয়ে সর্বাত্নক সহায়তার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, বিজিবি কখনো কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না; বরং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে।

বলিপাড়া জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন-এর নির্দেশনায় পরিচালিত এ কার্যক্রমে বিজিবির সদস্যরা পুরো পরিস্থিতিতে উচ্চমাত্রার পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন।
এদিকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভিকটিম শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ৩৮ বিজিবির অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এ ধরনের ঘটনা খুব সহজেই বড় ধরনের সামাজিক বা সাম্প্রদায়িক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। কিন্তু বিজিবির দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে পরিস্থিতি শান্ত রাখা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবির এই ধৈর্যশীল ও মানবিক ভূমিকা শুধু একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত ঠেকায়নি, বরং পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনের শাসন বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রসঙ্গত, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। স্থানীয়দের মতে, থানচির সাম্প্রতিক ঘটনাতেও সেই দায়িত্বশীলতারই প্রতিফলন দেখা গেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।