চীনের তথ্যেই অপসারণ জান্তা মুখপাত্র জাও মিন তুন, ড্রোন চুক্তিতে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন টুন-এর আকস্মিক অপসারণের পেছনে চীনের ভূমিকা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। চীনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সীমিত চীনা ড্রোন সংগ্রহে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বেইজিংয়ের নজরে আসার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি জান্তার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত মাসের শেষ দিকে তার অপসারণের খবর প্রকাশ পায়, তবে তখন কারণ স্পষ্ট ছিল না।
পরবর্তীতে জানা যায়, গত ১৩ মার্চ নেপিদো সফরের সময় চীনের বিশেষ দূত দেং জিজুন জান্তা কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেন যে, জাও মিন তুন একটি মিয়ানমারভিত্তিক কোম্পানির কাছে চীনা ড্রোন বিক্রির মধ্যস্থতা করেছিলেন, যদিও চীন নিজ দেশের বাইরে এসব ড্রোন বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
ড্রোনের ধরন, আকার, চুক্তির সময় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্ট চীনা ড্রোন কোম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে বেইজিং।
জান্তা নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরকালে ডেং শি জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সোয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সদ্য সাবেক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং জাও মিন তুনের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন। নেপিদোর একটি সূত্র জানায়, তিনি ড্রোন চুক্তির মধ্যস্থতায় প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার কমিশন নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এই স্বীকারোক্তির পরপরই তাকে উপ-তথ্যমন্ত্রী, সেনাবাহিনীর জনসংযোগ ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বিভাগের পরিচালক এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের তথ্য প্রধানসহ সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়ে ইয়িন্ট অংকে, যিনি জনসংযোগ ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ অধিদপ্তরের পরিচালক।

চীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণের ধারাবাহিকতায় জাও মিন তুন সর্বশেষ সংযোজন। এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল তুন তুন নাউংকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যখন বেইজিং জানায় তিনি উত্তর শান রাজ্যের প্রতারণা চক্র থেকে লাভবান হচ্ছিলেন।
অপসারণের পর থেকে জাও মিন তুন জনসম্মুখে আর দেখা যাননি। ২৭ মার্চ সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কুচকাওয়াজসহ গুরুত্বপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠানেই তাকে দেখা যায়নি। তার অপসারণ নিয়ে নানা জল্পনা ছিল—সাম্প্রতিক মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার, জ্বালানি সংকট বা তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও আলোচনা চলছিল।
অন্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তার পক্ষে নিরলস প্রচারণা চালানোর পুরস্কার হিসেবে মিন অং হ্লাইং তাকে নতুন তথ্যমন্ত্রী করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ড্রোন চুক্তির ঘটনা সামনে আসায় তার পতন ঘটে।
জান্তার ‘মিথ্যার কারিগর’ হিসেবে পরিচিত জাও মিন তুন একাধিক বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য সমালোচিত ছিলেন। তিনি ক্ষমতাচ্যুত স্টেট কাউন্সেলর দাও অং সান সু চির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন, যা একাধিক বিচারিক প্রক্রিয়া সত্ত্বেও প্রমাণিত হয়নি।
২০২৩ সালে উত্তর শান রাজ্যে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাদের মিত্র পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের হাতে সামরিক বাহিনীর বড় ধরনের পরাজয়কে তিনি “সাময়িক কৌশলগত পশ্চাদপসরণ” বলে মন্তব্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ওই পরাজয়ের পর থেকে জান্তা এখনো হারানো অধিকাংশ এলাকা পুনর্দখল করতে পারেনি, যা তাদের সামরিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।