মিজোরামে শান্তিচুক্তির পথে শেষ সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ অবসানের আশা

মিজোরামে শান্তিচুক্তির পথে শেষ সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ অবসানের আশা

মিজোরামে শান্তিচুক্তির পথে শেষ সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ অবসানের আশা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মিজোরাম সরকার লালহমিংথাঙ্গা সানাতে নেতৃত্বাধীন Hmar People’s Convention (Democratic) (এইচপিসি-ডি) গোষ্ঠীর সঙ্গে ১৪ এপ্রিল একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিজোরামে সক্রিয় শেষ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবেই এই সংগঠনটি চিহ্নিত, ফলে এ চুক্তি রাজ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ অবসানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আইজলে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে. সাপদাঙ্গা। বৈঠকে এইচপিসি (ডি) সদস্যদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার লজিস্টিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব সেটেলমেন্ট) স্বাক্ষর হবে সাকাওরদাই গ্রামে, যা মণিপুর সীমান্তসংলগ্ন মিজোরামের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। সরকারের পক্ষে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং সংগঠনের পক্ষে সভাপতি লালহমিংথাঙ্গা সানাতে এতে স্বাক্ষর করবেন।

অনুষ্ঠানে লালমুয়ানপুইয়া পুন্টে-সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর সংগঠনের সদস্যদের সরকার নির্ধারিত অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হবে, যেখানে তারা অবস্থান করবেন ৩০ এপ্রিল নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক অস্ত্র সমর্পণ কর্মসূচি পর্যন্ত।

অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে আইজল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে সেসাওং এলাকায় অবস্থিত রাজ্য পুলিশের সেন্ট্রাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে। ইতোমধ্যে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের জন্য সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে, যা সপ্তাহান্তে চূড়ান্ত হতে পারে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ‘হোমকামিং’ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এইচপিসি (ডি)-এর মোট ৪৩ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করে বেসামরিক জীবনে ফিরে আসবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে মিজোরামে হমার জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে ওঠে, এইচপিসি (ডি) সেই ধারার শেষ সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাদের মূল দাবি ছিল রাজ্যের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হমার অধ্যুষিত এলাকাগুলোর জন্য ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় একটি স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) গঠন।

এই আন্দোলনের সূচনা ১৯৮৬ সালে, যখন আইজলে Hmar People’s Convention (এইচপিসি) গঠিত হয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় ১৯৮৭ সালে সংগঠনটি সশস্ত্র পথে যায়।

পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন নেতা হমিংচুংনুঙ্গার নেতৃত্বে এইচপিসি সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে, যার ফলে ‘সিনলুং হিলস ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’ গঠিত হয়। তবে চুক্তিতে অসন্তুষ্ট একটি অংশ গোপনে থেকে যায় এবং পরে সানাতের নেতৃত্বে এইচপিসি (ডি) গঠন করে।

পরবর্তী সময়ে এইচপিসি (ডি) মিজোরামের বাইরে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতেও কার্যক্রম বিস্তৃত করে। সংগঠনের আসাম শাখা সম্প্রতি রাজ্য সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করে ‘হমার ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে মণিপুরে তাদের শাখা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে ‘সাসপেনশন অব অপারেশনস’ (এসওও) চুক্তির আওতায় রয়েছে।

সংগঠনটির অভ্যন্তরেও বিভাজন দেখা যায়। এইচ. জোসাংগাবেরার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিদ্বন্দ্বী অংশ ২০১৮ সালে মিজোরাম সরকারের সঙ্গে পৃথক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে, যার ফলে অধিক স্বায়ত্তশাসনসহ ‘সিনলুং হিলস কাউন্সিল’ গঠিত হয়।

তবে সানাতে নেতৃত্বাধীন অংশটি এতদিন শান্তি প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল এবং সীমিত কার্যক্রম চালিয়ে যায়। বিশেষ করে হমার অধ্যুষিত এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, এবং অনেক ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী আসাম থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো বলে জানা গেছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *