দ্বন্দ্ব এড়াতে দুই স্থানে দুই কমিটির সাংগ্রাই: বর্ষবরণ উৎসব ঘিরে প্রস্তুতিতে মুখর বান্দরবান
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবানে বর্ষবরণ উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন নিয়ে অবশেষে সমাধানে পৌঁছেছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার দুইটি পৃথক স্থানে উৎসব আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) গৃহীত এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কমিটি রাজার মাঠে এবং পুরাতন কমিটি উজানী পাড়া সাঙ্গু নদীর চরে সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন করবে।
আয়োজকদের মতে, পৃথকভাবে আয়োজনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে।
পুরাতন কমিটির সভাপতি চনুমং জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করে আসছেন। তবে বিভিন্ন কারণে এবার দুইটি কমিটি গঠিত হওয়ায় তারা উজানী পাড়া সাঙ্গু নদীর চরে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে নতুন কমিটির সভাপতি চথুই প্রু মারমা বলেন, রাজার মাঠে সাংগ্রাই আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং উৎসবকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুর রহমান জানান, উৎসব নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উৎসব ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। নতুন পোশাক কেনা, মন্দির ও ঘরবাড়ি সাজানোসহ নানা আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয়রা।
পাহাড়ের অন্যতম বর্ণিল এই বর্ষবরণ উৎসবে থাকে চন্দন পানিতে বৌদ্ধমূর্তি স্নান, বয়স্ক পূজা, পিঠা-পাচন প্রস্তুত, জলকেলি, ঘিলা খেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বান্দরবানে ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বাঙালি মিলিয়ে মোট ১২টি জনগোষ্ঠীর বসবাস থাকায় উৎসবটি হয়ে ওঠে বহুমাত্রিক ও আনন্দঘন।
আগামী ১২ এপ্রিল সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে এই ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের সমঝোতামূলক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।