রোহিঙ্গাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে ১ কোটি ডলার অনুদান দিলো কানাডা

রোহিঙ্গাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে ১ কোটি ডলার অনুদান দিলো কানাডা

রোহিঙ্গাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে ১ কোটি ডলার অনুদান দিলো কানাডা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।

কানাডা জানিয়েছে, এই অর্থ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলপি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে—যা রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে নাজুক পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে ঢাকায় কানাডা হাইকমিশন ও ইউএনএইচসিআর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এলপিজি বিতরণ শুরুর পর থেকে ক্যাম্পে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। এতে বন উজাড় হ্রাসের পাশাপাশি প্রতিবছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ রোধ হচ্ছে।

এ উদ্যোগ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলেও জানিয়েছে কানাডা। বিশেষ করে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় যে ঝুঁকি তৈরি হয়, তা কমাতে এলপিজি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এই জলবায়ু-সচেতন সহায়তা পরিবেশ সুরক্ষা, বন উজাড় হ্রাস এবং শরণার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, এই অনুদান কক্সবাজারের মতো পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শরণার্থীদের জন্য উপকার বয়ে আনবে এবং জ্বালানি কাঠ সংগ্রহজনিত ঝুঁকি কমাবে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, ৯ বছর ধরে রোহিঙ্গারা কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতিতে আছেন। কানাডার এই সহায়তা শরণার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন (অন্তর্বর্তীকালীন) জ্যাসেপ্পে লোপ্রিট বলেন, নিরাপদ জ্বালানি শরণার্থী পরিবারগুলোর কল্যাণে মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে এবং বিপজ্জনক কাঠ সংগ্রহের প্রয়োজন কমাচ্ছে।

২০১৮ সাল থেকে এই রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার মূলে রয়েছে এলপিজি সরবরাহ। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরে বাতাসের গুণমান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কানাডার এই অনুদান প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন সংরক্ষণে সহায়তা করবে।

এটি ভূমিধসের ঝুঁকি কমাবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব কমিয়ে স্থানীয় সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।