আসামে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত প্রকল্পে ৬০ কোটি রুপির দুর্নীতি অভিযোগ
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের আসামে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় ৬০ দশমিক ৩০ কোটি রুপির ঘুষ ও অর্থপাচারের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে দেশটির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) অনুযায়ী বিশেষ আদালতে এই প্রসিকিউশন অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
গুয়াহাটি জোনাল অফিস থেকে দায়ের করা এ অভিযোগে ন্যাশনাল প্রজেক্টস কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন লিমিটেড (এনপিসিসি)-এর অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা, একটি বেসরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এনপিসিসি লিমিটেডের সাবেক জোনাল ম্যানেজার (উত্তর-পূর্ব অঞ্চল) রাকেশ মোহন কোটওয়াল, জলপাইগুড়ি প্রকল্প কার্যালয়ের ইনচার্জ লতিফুল পাশা, এম/এস শ্রীর গৌতম কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক অনীশ বৈদ ও বিনোদ সিংহি এবং সুনীল কুমারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, যেমন এম/এস জৈচাঁদ লাল সিংহি।
ইডি জানিয়েছে, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর পক্ষে এনপিসিসি কর্তৃক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৯টি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে এ দুর্নীতির যোগ রয়েছে।
তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, বকেয়া বিল প্রায় ২ দশমিক ২৪ কোটি রুপি ছাড় করার বিনিময়ে কোটওয়াল ও পাশা অনীশ বৈদের কাছে প্রথমে ৩৩ লাখ রুপি ঘুষ দাবি করেন, যা পরে সমঝোতার মাধ্যমে ৩০ লাখ রুপিতে নির্ধারিত হয়।
কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-এর দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্তে ২৫ লাখ রুপির একটি অর্থপাচার চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়, যা সিলচর, গুয়াহাটি ও দিল্লির মধ্যে হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হচ্ছিল।
তদন্তে জানা যায়, অর্থগুলো শ্রীর গৌতম কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড ও এম/এস জৈচাঁদ লাল সিংহির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুরিয়ে এম/এস ভিনিত ডিস্ট্রিবিউটরস-এ স্থানান্তর করা হয়। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই দিল্লির একটি হোটেলে সুনীল কুমারের কাছে নগদ ২৫ লাখ রুপি হস্তান্তরের সময় সিবিআই তা জব্দ করে।
এছাড়া সিলচরের একটি হুন্দাই শোরুম থেকে আরও ১৫ লাখ রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়েছে, যা বিনোদ সিংহির নির্দেশে সেখানে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ইডি।
ইডি আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ওই অঞ্চলের বিভিন্ন এনপিসিসি প্রকল্পে জড়িত একাধিক ঠিকাদারের কাছ থেকেও ঘুষ দাবি করেছেন, যা একটি বিস্তৃত দুর্নীতির চক্রের ইঙ্গিত দেয়।
সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর ধারা ৩-এর অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ধারা ৪ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই চক্রের বিস্তৃতি ও অন্যান্য সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রসঙ্গত, সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।