বীরত্বের অমর দৃষ্টান্ত: সিপাহী মোস্তফা কামালের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ

বীরত্বের অমর দৃষ্টান্ত: সিপাহী মোস্তফা কামালের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ

বীরত্বের অমর দৃষ্টান্ত: সিপাহী মোস্তফা কামালের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

আজ ১৮ এপ্রিল, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তান শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল-এর ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী। জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে এই অকুতোভয় বীরকে, যিনি জীবন উৎসর্গ করে রচনা করেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য গৌরবগাথা।

১৯৪৭ সালে ভোলা জেলার দৌলতখানা উপজেলার পশ্চিম হাজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোস্তফা কামাল। তাঁর পিতা ছিলেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন হাবিলদার। শৈশবের একাংশ কেটেছে কুমিল্লা সেনানিবাসে, যেখানে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। ১৯৬৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সিপাহী পদে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গড়ে তোলার পর পাকিস্তানি বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে কৌশলগত পুনঃমোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দরুইন এলাকায় অবস্থানকালে তাঁর সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণে মুগ্ধ হয়ে মেজর সাফায়েত জামিল তাঁকে একটি সেকশনের দায়িত্ব অর্পণ করেন।

১৭ ও ১৮ এপ্রিল দরুইন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যাপক আক্রমণের মুখে তিনি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে তিনি নিজে পরিখায় অবস্থান নিয়ে হালকা মেশিনগান দিয়ে একটানা কভার ফায়ার চালাতে থাকেন। শত্রুর চারদিক থেকে ঘেরাও সত্ত্বেও তিনি অবস্থান ত্যাগ করেননি। একপর্যায়ে শত্রুর গুলিতে তিনি শহীদ হন, কিন্তু তাঁর এই আত্মত্যাগের ফলে সহযোদ্ধারা নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন।

তাঁর এই অতুলনীয় বীরত্ব ও আত্মোৎসর্গের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করে।

আজকের এই দিনে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সেই মহান বীরকে, যার আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতার সূর্য। তাঁর বীরত্বগাঁথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সিপাহী মোস্তফা কামালের মতো আত্মত্যাগী বীরদের অবদানই স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেছে এবং তাঁদের স্মৃতি জাতির চেতনায় চির অম্লান হয়ে থাকবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *