জেলা পরিষদের উদ্যোগে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ায় ৯৬ পরিবারে সুপেয় পানির নতুন দিগন্ত
![]()
নিউজ ডেস্ক
দীর্ঘদিনের পানির সংকট কাটিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকার তিনটি দুর্গম পাড়ায় আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা টাওয়ার উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে করে দ্রোনচার্য পাড়া, দেবরঞ্জন পাড়া ও আপ্রুশি চেয়ারম্যান পাড়ার শতাধিক মানুষের জন্য নিরাপদ পানির নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
শনিবার সকালে পার্বত্য জেলা পরিষদের CoRLIA প্রকল্পের আওতায় Ecosystems Restoration and Resilient Development (ERRD)-CHT এবং United Nations Development Programme-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। এ সময় সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন প্রকল্পের জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন।
প্রকল্পের আওতায় তিনটি পাড়ায় ইলেকট্রিক পাম্প ও সৌরশক্তিচালিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন সরাসরি ঘরে ঘরে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং তাদের জীবনযাত্রার মানে এক নতুন পরিবর্তনের সূচনা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নিরাপদ পানির গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রকল্প মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিনটি পাড়ার মোট ৯৬টি পরিবার সরাসরি এই সুবিধার আওতায় এসেছে। এর মধ্যে দ্রোনচার্য পাড়ার ২৫টি, দেবরঞ্জন পাড়ার ২৬টি এবং আপ্রুশি চেয়ারম্যান পাড়ার ২৭টি পরিবার নিয়মিত সুপেয় পানি ব্যবহার করতে পারবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
প্রকল্পের আওতায় দ্রোনচার্য পাড়ায় নতুন নলকূপ স্থাপন, বিদ্যুৎ সংযোগ, ২০০০ লিটার ধারণক্ষমতার প্রধান ট্যাংক এবং ১০০০ লিটার ধারণক্ষমতার সাব-ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক পানি সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করে পুরো পাড়াকে নিরাপদ পানির আওতায় আনা হয়েছে। দেবরঞ্জন পাড়ায় বিদ্যমান নলকূপের সঙ্গে ইলেকট্রিক পাম্প সংযুক্ত করে পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন নলকূপ স্থাপন ও পৃথক বিদ্যুৎ সংযোগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অন্যদিকে আপ্রুশি চেয়ারম্যান পাড়ায় পানীয় জলের পাশাপাশি সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে, যা কৃষিনির্ভর স্থানীয়দের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। এতে সেচ খরচ কমবে এবং ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে দূর পাহাড়ি ঝিরি বা একমাত্র নলকূপের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সংকটে পরিণত হতো। এখন ঘরের কাছেই বিশুদ্ধ পানি পাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ হয়েছে।
দ্রোনচার্য পাড়ার কার্বারি জীবন চাকমা বলেন, আগে একটি নলকূপের ওপর পুরো পাড়া নির্ভর করত এবং পানি পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন সহজেই পানি পাওয়া যাচ্ছে, যা তাদের জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে।
প্রকল্প কর্মকর্তা নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন জানান, এটি শুধু পানি সরবরাহ প্রকল্প নয়, বরং একটি টেকসই কমিউনিটি গড়ে তোলার উদ্যোগ। আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা ও স্থানীয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি মডেল হয়ে থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পাড়ার প্রবীণ ব্যক্তি এবং বিপুলসংখ্যক উপকারভোগী উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।