‘১০০ দিনের পরিকল্পনা’তে চীনা পণ্যে কঠোর অবরোধ, মিয়ানমারে তীব্র বাজার অস্থিরতা

‘১০০ দিনের পরিকল্পনা’তে চীনা পণ্যে কঠোর অবরোধ, মিয়ানমারে তীব্র বাজার অস্থিরতা

‘১০০ দিনের পরিকল্পনা’তে চীনা পণ্যে কঠোর অবরোধ, মিয়ানমারে তীব্র বাজার অস্থিরতা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের নতুন সামরিক-সমর্থিত সরকার তাদের ঘোষিত “১০০ দিনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা”র অংশ হিসেবে চীনা পণ্যের ওপর অবরোধ আরও কঠোর করেছে। এর ফলে দেশজুড়ে পণ্যের ঘাটতি ও বাজারে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

মে মাসের শুরু থেকে মিউজ-ম্যান্ডালে মহাসড়কের লাশিও, হসিপাও, নামলান, কিয়াউকমে, নওংখিও এবং প্যিন উ লুইন এলাকায় স্থাপিত চেকপোস্টগুলোতে পণ্যবাহী ট্রাক তল্লাশি করে পণ্য জব্দ করা হচ্ছে। এতে অনেক পরিবহন প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভোগ্যপণ্য, খাদ্যদ্রব্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং নির্মাণসামগ্রী। এসব পণ্য মিউজ ও চিন শোয়ে হাও সীমান্ত বাণিজ্য অঞ্চলের মাধ্যমে প্রবেশ করেছিল, যেগুলো বর্তমানে মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (MNDAA)-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এক পরিবহন ব্যবসায়ী দ্য ইরাবতীকে জানান, চীনা পণ্য জব্দ নতুন কিছু নয়, তবে “১০০ দিনের পরিকল্পনা”র অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।

তিনি বলেন, “আগে ছোট পরিমাণ পণ্য হলে যেতে দিত। এখন কোনো চীনা পণ্যই পার হতে দিচ্ছে না। এসব পণ্যবাহী ট্রাক ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, চেকপোস্টগুলোতে শুধু চীনা পণ্যই লক্ষ্যবস্তু, স্থানীয় পণ্য নয়।

“কয়েক দিন আগে আমার ট্রাক থামিয়ে সব চীনা পণ্য নামিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য যেমন শিম ও চা পাতা যেতে দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।

একই সঙ্গে যাত্রীবাহী গাড়িও তল্লাশি করা হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আনা চীনা পণ্যও জব্দ করা হচ্ছে বলে জানান মিউজ-ম্যান্ডালে রুটের আরেক পরিবহন ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, “১০০ দিনের পরিকল্পনার কারণে আমরা পণ্য পরিবহন করতে পারছি না। শুধু যাত্রীবাহী গাড়ি চলতে পারছে, কিন্তু ছোট প্যাকেটও বহন করা যাচ্ছে না। এতে যাত্রীও কমে গেছে এবং কিছু পরিবহন ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে।”

ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই কড়াকড়ির কারণে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিচ্ছে, কালোবাজারি বাড়ছে, দাম বাড়ছে এবং কাঁচামালের অভাবে স্থানীয় উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।

ম্যান্ডালয়ের এক কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকান মালিক বলেন, “এখনও পুরোনো মজুদ আছে, কিন্তু জব্দ অব্যাহত থাকলে শিগগিরই সংকট তৈরি হবে। দাম ইতোমধ্যেই বাড়ছে। আগেরবার উপ-সামরিক প্রধান সোয়ে উইনের নির্দেশে অভিযানের সময় চীনা কাগজের দাম চারগুণ বেড়েছিল। এবার পণ্য শেষ হলে দাম কত বাড়বে বলা যায় না।”

২০২৩ সালের শেষ দিকে ‘অপারেশন ১০২৭’-এর মাধ্যমে উত্তর শান রাজ্যের সীমান্ত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর থেকেই জান্তা সরকার চীনা পণ্যের প্রবাহে বাধা দিচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বিকল্প হিসেবে চোরাচালান রুটের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বর্তমানে উত্তর শান অঞ্চলের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ চীন-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য রুট MNDAA-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও চীনের মধ্যস্থতায় জান্তা লাশিও শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে, তবে সীমান্ত থেকে লাশিও পর্যন্ত প্রধান সড়কগুলো এখনও MNDAA-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে মিন অং হ্লাইং বলেন, আমদানি পণ্যের কারণেই দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা “হওয়া উচিত নয়”।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়া জান্তা সরকার জ্বালানি ও ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যার ফলে দেশে মূল্যবৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা এই নীতিকে ভুল এবং দেশের দুর্বল অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর বলে সমালোচনা করেছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *