সশস্ত্র দলে যোগ না দেয়ায় কলেজ ছাত্র সঞ্জয় চাকমাকে হত্যা করল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা!

সশস্ত্র দলে যোগ না দেয়ায় কলেজ ছাত্র সঞ্জয় চাকমাকে হত্যা করল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা!

সশস্ত্র দলে যোগ না দেয়ায় কলেজ ছাত্র সঞ্জয় চাকমাকে হত্যা করল ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা!

ছবি- সঞ্জয় চাকমা।

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দীঘিনালায় সঞ্জয় চাকমা (১৯) নামে এক কলেজছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর হত্যার অভিযোগ। পরিবারের দাবি—এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগের তীর প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সন্ত্রাসীদের দিকে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও ক্ষোভ।

নিহত সঞ্জয় চাকমা বাবুছড়া এলাকার নুনছড়ি দিবিপাড়ার বাসিন্দা এবং বাবুছড়া কলেজের ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি আগে ইউপিডিএফের সহযোগী ছাত্রসংগঠন পিসিপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও একটা সময় সংগঠনের কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সশস্ত্র শাখায় যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এই সিদ্ধান্তের জের ধরেই তার সঙ্গে সংগঠনের স্থানীয় নেতাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ মে সকালে সঞ্জয়কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা। এরপর বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়। পরিবারের দাবি, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

এই ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন তরুণ শিক্ষার্থী যদি নিজের মত প্রকাশের কারণে এভাবে প্রাণ হারান, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? পাহাড়ে বসবাসরত তরুণদের ভবিষ্যৎ কি তবে সশস্ত্র চাপ ও ভয়ের মধ্যেই নির্ধারিত হবে?

এখানেই বড় প্রশ্ন উঠে আসে—পার্বত্য অঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব কি এখনো এতটাই প্রবল যে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর স্বাধীন সিদ্ধান্তও সহ্য করা হচ্ছে না? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও কার্যক্রম থাকা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে? এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসার পরও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকলে জনমনে আস্থার সংকট আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে এখনো ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা সন্দেহ ও প্রশ্নকে আরও জোরালো করছে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবারসহ স্থানীয়রা।

একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীর এমন করুণ পরিণতি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার এখন সময়ের দাবি।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed