যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ড্রোন ও আকাশযান কেনার জন্য ২৭ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা
![]()
নিউজ ডেস্ক
জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের বড় কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিমানবাহিনীর জন্য বহুমুখী যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, আধুনিক ড্রোন সিস্টেম, অত্যাধুনিক আকাশযানসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নত যুদ্ধ সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনীকে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ সক্ষমতা’সম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের জন্যও নেওয়া হচ্ছে সমন্বিত উদ্যোগ।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় করে এ পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক বাজেট প্রস্তাব নয়; সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য আলাদা পরিকল্পনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে অর্থ বিভাগ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৪২ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা ৩৯ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা করা হয়। এর আগের অর্থবছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট ব্যয় হয় ৩৪ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হয় যুদ্ধ করার জন্য নয়; বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য।
তিনি বলেন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যাপকভাবে সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নকেও তিনি সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন।
বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা
দেশের আকাশসীমা নিরাপদ ও সুসংহত রাখতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১২ হাজার ২৩২ কোটি ১৮ লাখ টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করার কর্মপরিকল্পনার কথা তাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনার আওতায় বহুমাত্রিক যুদ্ধবিমান (এমআরসিএ), লক্ষ্যভেদী অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং ভিআইপি পরিবহনের জন্য বিশেষ হেলিকপ্টার কেনা হবে। পাশাপাশি আধুনিক ড্রোন (ইউএভি), অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি, দূরপাল্লার রাডারসহ অন্যান্য উন্নত সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, রাডার সংযোজিত যুদ্ধবিমান, এমএসএএম সিস্টেম ইত্যাদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আকাশযান, রাডার ও আধুনিক সরঞ্জাম ক্রয় ও সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী একটি শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে আঞ্চলিক ও বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পরিকল্পনায় দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সার্বক্ষণিক নজরদারি, দক্ষ বৈমানিক, প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান তৈরির মাধ্যমে বিমানবাহিনীকে ধাপে ধাপে স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর জন্য যেসব প্রস্তাব
সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে প্রায় ৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনা হবে। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে এক হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের জন্য ‘ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করতে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
দেশীয় জাহাজ নির্মাণশিল্পকে কাজে লাগিয়ে চারটি বড় টহল জাহাজ নির্মাণে প্রায় ৭৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সাবমেরিন ঘাঁটি পেকুয়ার জন্য একটি কাটার সাকশন ড্রেজার, চারটি ভিস্যাট, একটি প্রশিক্ষণ সিমুলেটরসহ আরও কিছু কেনাকাটার জন্য ব্যয় হবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
অবকাঠামো উন্নয়ন
সশস্ত্র বাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৫৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় ১২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আইএফএফ সিস্টেম স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় নৌবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রশাসনিক ভবন, বহুতল আবাসিক ভবন, মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স এবং হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বানৌজা ঈসা খাঁ, বিএন ডকইয়ার্ড, বানৌজা তিতুমীর এবং বানৌজা পতেঙ্গায় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।