অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালত নয়, সোজা সীমান্ত পার- শুভেন্দু
![]()
নিউজ ডেস্ক
সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, হাওড়া স্টেশনকে ঘিরে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালত নয়, সোজা সীমান্ত পার।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) হাওড়ার নতুন কালেকটারেটে দাঁড়িয়ে আরপিএফ (রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। পেট্রাপোল-বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে সরাসরি ফেরত পাঠানোর কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, সীমান্ত-নীতিতে তার সরকার কতটা কঠোর হতে চলেছে।
বৈঠকে বারবার উঠে এসেছে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, হাওড়া স্টেশনকে ঘিরে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে হবে। আইনি মারপ্যাঁচে সময় নষ্ট না করে দ্রুত বিতাড়নের নির্দেশ দেন তিনি। প্রশাসনের একাংশের মতে, ভোটের আগে সীমান্ত ও পরিচয়ের রাজনীতিকে সামনে আনতে চাইছে ক্ষমতাসীন দল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হাওড়া-বালি পুরভোটকে বাজপাখির চোখ করেছে বিজেপি। একদিকে সীমানা নির্ধারণ ও দ্রুত ভোটের ঘোষণা দিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতার বার্তা, অন্যদিকে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া অবস্থান। দুইয়ে মিলে ভোটের ময়দান গরম করার কৌশল স্পষ্ট।
শপথের পর থেকেই জেলায় জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করে ‘কাজের সরকার’ ছাপ ফেলতে চাইছেন শুভেন্দু। হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি শিল্পাঞ্চলে ভোট, রেলের সঙ্গে সমন্বয় আর সীমান্ত-নীতিকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, রাজনীতি আর প্রশাসনকে আলাদা রাখতে রাজি নন।
প্রশাসনিক বৈঠকের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত রাজ্য পুলিশের ডিজি, পুরো নগর উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তারা, হাওড়া শহরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ কর্মকর্তারা, পৌর কর্মকর্তাসহ পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার। হাওড়া শহর ও স্টেশন চত্বরের জল-নিকাশি, যানজট, বেআইনি দখল সব সমস্যায় রেল-রাজ্য যৌথভাবে নামবে। আগের শাসনে রেল-পৌরসভার ঠান্ডা লড়াইয়ে ভুগেছে শহর। সেই ছবি বদলাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সকালে প্রথমে তিনি উপস্থিত হন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রধান কার্যালয় বেলুড় মঠে। সেখানে পিছুটা সময় কাটানোর পরে দুপুর ১২টা নাগাদ প্রশাসনিক বৈঠক করতে উপস্থিত হন হাওড়া জেলাশাসকের দপ্তরে, এরপরে তিনি সেখান থেকে রওনা দেন দুর্গাপুরের উদ্দেশে সেখানে তার একটি প্রশাসনিক ও একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। সেই কর্মসূচি সম্পূর্ণ করে সন্ধ্যায় তিনি দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। সেখানে জাতীয় অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।