দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম বিদেশ সফরে ভারত যাচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম বিদেশ সফরে ভারত যাচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথম বিদেশ সফরে ভারত যাচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফরে আগামী মাসে ভারত যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে, আগামী জুনে এই সফর বাস্তবায়িত হলে তা নয়াদিল্লি ও নেপিদোর মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাকেই তুলে ধরবে। এই সম্পর্ক ভারতের দীর্ঘমেয়াদি ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ কূটনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রায় পাঁচ বছর আগে হ্লাইং সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। তার শাসনকালে দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

গত ১০ এপ্রিল একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হ্লাইং দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদে, অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ ভাঁওতাবাজি বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ওই ভোটে সু চির দলসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে, ফলে সামরিক বাহিনীর অনুগত বেসামরিক প্রার্থীরা অনেকটা বিনা বাধায় বিজয়ী হন।

ভারতীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, হ্লাইংয়ের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং অংশগ্রহণ করেন, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন। সফরে তিনি নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেন। এ সময় নেপিদোতে ভারতের অর্থায়নে একটি বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। মে মাসের শুরুতে ভারতীয় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দিনেশ কুমার ত্রিপাঠী মিয়ানমার সফর করেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোনো ভারতীয় নৌপ্রধানের প্রথম মিয়ানমার সফর হিসেবে বিবেচিত। এই সফরে তিনি মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের সাথে বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, যৌথ সামরিক মহড়া, সীমান্ত পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ভারত মিয়ানমারে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। ২০২৫ সালের মার্চে ৭.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভারত ‘অপারেশন ব্রহ্মা’ পরিচালনা করে, যার আওতায় সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং একটি ফিল্ড হাসপাতাল দল পাঠানো হয়, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *