মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে গেলেন হ্লাইং
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে প্রতিবেশী ভারত সফরে গেছেন মিন অং হ্লাইং। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সফরটি শনিবার (৩০ মে) থেকে বুধবার (৩ জুন) পর্যন্ত চলবে।
মিয়ানমারের সাবেক এই সামরিক নেতা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু’র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গেল এপ্রিল মাসে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর এটিই মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই নির্বাচনকে প্রহসন বলে আখ্যায়িত করেছে।
২০২১ সালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে মিন অং হ্লাইং নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেন। ওই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন অং সান সু চি। এর ফলে শুরু হয় এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ, যা পাঁচ বছর পরও শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

সহিংসতা চলমান থাকা সত্ত্বেও সামরিক বাহিনী নির্বাচন আয়োজন করে। যুদ্ধের কারণে লাখো মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এবং অং সান সু চি’র দলকে নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়নি।
হ্লাইংয়ের সফর শুরুর আগে নয়াদিল্লি এক বিবৃতিতে জানায়, এই সফর ‘দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীর করবে বলে আশা করা হচ্ছে’।
বেশিরভাগ বিশ্লেষক ধারণা করেছিলেন, মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম বিদেশ সফর হবে প্রতিবেশী চীনে, যারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সবচেয়ে বড় সমর্থক এবং সাধারণ নির্বাচনকেও সমর্থন করেছিল। কিন্তু সেই সফর হয়নি।
এর একটি কারণ হতে পারে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর ব্যস্ততা–যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এছাড়া মিয়ানমার বিশ্লেষক মিন জাও ও-এর ভাষায়, ‘আলোচ্যসূচি নিয়ে উভয় পক্ষের আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল’।
তবে হ্লাইংয়ের এই ভারত সফরকে অপ্রত্যাশিত মনে করেন না সিঙ্গাপুরের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মিয়ানমার বিশ্লেষক মরগান মাইকেলস।

তিনি বলেন, ‘ভারত ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে নেপিদোর সঙ্গে কম-বেশি সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তাদের মূল্যায়ন ছিল, দেশটির সামরিক বাহিনী দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকবে। এপ্রিল মাসে মিন অং হ্লাইংয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠিয়েছিল, যা ইঙ্গিত করে যে নয়াদিল্লি নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী।’
এছাড়া চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই গত মাসেই মিয়ানমার সফর করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারত ও মিয়ানমারের আলোচনায় আসার মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুই দেশের প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত সীমান্তসংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগ। মিয়ানমার সামরিক শাসনবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন নিয়ে উদ্বিগ্ন, আর ভারত উদ্বিগ্ন তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো নিয়ে। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, পাশাপাশি মানবপাচারও আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে।
নয়াদিল্লি মিয়ানমারের বিপুল বিরল খনিজ সম্পদের কিছু অংশে প্রবেশাধিকার পেতেও আগ্রহী। তবে এই অঞ্চলের বিরল খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী চীন এ বিষয়ে সহজে সম্মতি দেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এমন সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দুই বছর ধরে বিরোধী বাহিনীর কাছে একের পর এক বড় ক্ষতির পর আবারও আক্রমণাত্মক অবস্থানে ফিরে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কৌশল এবং উন্নত ড্রোন সক্ষমতা তাদের এই অগ্রযাত্রায় সহায়তা করছে। এসব প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশের একটি অংশ এসেছে রাশিয়া থেকে এবং কিছু ক্ষেত্রে চীন থেকেও।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।