দল-মত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করতে চাই: খাগড়াছড়িতে ওয়াদুদ ভূইয়া
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি বলেছেন, স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা গেলে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন আরও টেকসই, কার্যকর ও জনমুখী হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে খাগড়াছড়ি শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপির আয়োজনে বিশিষ্টজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, “পাহাড়ে দৃশ্যমান উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো স্থায়ী শান্তি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভূমি বিরোধ পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সমস্যা।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে তার মতে, এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা-এর আন্তরিক ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি এগিয়ে এলে সরকারও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে সেগুলো কোনোভাবেই অসমাধানযোগ্য নয়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে হবে। তিনি পাহাড়ি ও বাঙ্গালি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্প্রীতি বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও নাগরিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যা তুলে ধরেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন ওয়াদুদ ভূইয়া।
মতবিনিময় সভায় খাগড়াছড়ি আসনের সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, শিক্ষাবিদ ড. সুধীন কুমার চাকমা, বোধিসত্ত্ব দেওয়ান, মংপ্রু মারমা, চাকমা সমাজের প্রতিনিধি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, ম্রাসাথোয়াই মারমা এবং উন্নয়নকর্মী অরুণ কান্তি চাকমাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, খাগড়াছড়ির জনগণ ওয়াদুদ ভূইয়াকে যোগ্য মনে করেই নির্বাচিত করেছেন। এখন তারা আশা করেন, তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য কাজ করবেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, অপরাধী যে সম্প্রদায় বা মতাদর্শেরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, উন্নয়ন, ভূমি বিরোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভাকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।