আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক বানানোর কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক বানানোর কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। প্রাথমিকভাবে ওই এলাকায় চারটি সড়ক করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কাজ শুরু করে ব্রিগেডের আওতাধীন একটি ইউনিট।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুরেরর ছিন্নমূল থেকে আলীনগর হাইস্কুল পর্যন্ত একটি সড়ক হবে। আলীনগর থেকে টেক্সটাইল হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সড়ক হবে। এ ছাড়া আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির পাশ দিয়ে একটি সড়ক চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে মিলবে। এর বাইরে জঙ্গল সলিমপুরে আরও একটি অভ্যন্তরীণ সড়ক বানাবে সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আপাতত কোনো বাজেট হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। দুর্গম, পাহাড়ি ও চ্যালেঞ্জিং এলাকায় সড়ক বানানোর ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার আলোকে আমরা সেখানে কাজ শুরু করেছি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, একমাত্র দুর্গমতার কারণে এলাকাটিতে সন্ত্রাসীরা সুযোগ পায়। পর্যাপ্ত সড়ক না থাকায় ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথভাবে মুভ করতে পারে না। এলাকাটি সড়ক নির্মাণের জন্য আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি। শেষমেষ এটি আলোর মুখ দেখছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডর জঙ্গল সলিমপুর একটি অত্যন্ত দুর্গম, পাহাড়ি ও বনভূমি ঘেরা অঞ্চল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের অন্যতম অপরাধপ্রবণ দুর্ভেদ্য জনপদ হিসেবে এটি পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে আলী আক্কাস নামে এক সন্ত্রাসী প্রথম এই দুর্গম অঞ্চলে প্রবেশ করে পাহাড়ি খাসজমি কেটে অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু করেন এবং নিজের দখল টিকিয়ে রাখতে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নদীভাঙন কবলিত ও নিম্নআয়ের বাস্তুচ্যুত মানুষদের কাছে ছিন্নমূল পুনর্বাসনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে প্লট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার ভূমি বাণিজ্য শুরু হয়।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় চট্টগ্রাম র্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এরপর ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় ৪ হাজার সদস্য অংশ নেন। এরপর ওই এলাকা যৌথবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
গত ২৪ মে দিবাগত রাতে হঠাৎ জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত একটি যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র আক্রমণ করে সন্ত্রাসী দল। জবাবে পুলিশ ও র্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। তবে তার আগে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকার একটি রাস্তা কেটে দেয়। এরপর ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।