পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ: লালমনিরহাটের চার সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
![]()
নিউজ ডেস্ক
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার চার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তের শূন্যরেখায় জড়ো করা নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৩৩ জনকে শুক্রবার রাতে ও আজ শনিবার ভোরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বিএসএফ। জেলার পুরো সীমান্ত জুড়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। অন্যদিকে, অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা গেছে বিএসএফকে।
বিজিবি, সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার (৫ মে) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট সীমান্তের ১০ গজ ভেতরে বাংলাদেশ-ভারতের অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্তের প্রধান পিলার ৯১২ নম্বরের ২ নম্বর উপপিলারের কাছে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির আহ্বানে বৈঠকে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম ও ৭৮ বিএসএফের শ্রী মনোজ কুমার ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্টসহ উভয় দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরবর্তীতে সীমান্তের শূন্যরেখায় নিয়ে আসা লোকেদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সীমান্তসংলগ্ন লাইট বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। এ সময় জেলার আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের কাউয়ারচর ও কুঠিবাড়ি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ৭ জন ও একই উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের শ্রীলঙ্কাপাড়ার শূন্যরেখা থেকে ৫ জন, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বুড়াসারডুবি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১১ জন এবং শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকা বিপরীতে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মাথাভাঙ্গা থানার পানিশালা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১০ জনকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৪৬ নম্বরের ১ নম্বর উপপিলারের একদিকে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকা। অপরদিকে (বিপরীতে) ভারতের কোচবিহার রাজ্যের মাথাভাঙ্গা থানার পানিশালা সীমান্ত। এ সীমান্ত দিয়ে গতকাল শুক্রবার ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা পাঁচ নারী, তিন পুরুষ ও দুই ছেলে শিশুকে ঠেলে দেয়। একই দিনে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের সীমান্তের প্রধান পিলারের (৮৮৬) কাছে ভারতের বুড়াসারডুবি এলাকা থেকে ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ছোটমধুসূদন ক্যাম্পের সদস্যরা তিনজন পুরুষ ও আটজন নারীকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে।
ওই দিন আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের প্রধান পিলারের (৯২৫) বিপরীতে ভারতের কোচবিহার রাজ্যের শ্রীলঙ্কাপাড়া এলাকা থেকে ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পদ্মা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা একজন পুরুষ, চারজন নারী ও এক শিশুকে এবং একই সময় একই উপজেলার সীমান্তের ৯২৫ নম্বর প্রধান ও ৭ নম্বর উপপিলারের শূন্যরেখা দিয়ে ভারতীয় কাউয়ারচর ও কুঠিবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফের মদনাকুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন পুরুষ, দুজন নারী ও একজন শিশুকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে।
এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান বলেন, সব সীমান্তের আশপাশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা কোনো পুশ ইন হতে দেব না। যেসব সীমান্তে সমস্যা হয়েছে প্রত্যেকটির ব্যাপারে আমরা গ্রাউন্ড লেবেল (মাঠপর্যায়) কমান্ডার, সিও সব পর্যায়ে কথা বলেছি। আমরা শক্তভাবে বলেছি, এভাবে পুশ ইন করা যাবে না। স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর (নির্ধারিত প্রক্রিয়া) অনুযায়ী পাঠান। আপনাদের সঙ্গে আমাদের যে প্রত্যাবাসনের নিয়মাবলি আছে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন। এটা ইজি (সহজ) হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।