চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা তৈরিতে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প; নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা তৈরিতে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প; নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা তৈরিতে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প; নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

চাকরিনির্ভর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে বাহিনীর সদস্যদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং টেকসই আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে “সঞ্জীবন প্রকল্প” বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) গাজীপুরের সফিপুরে অবস্থিত আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

কর্মশালায় সঞ্জীবন প্রকল্পের বাস্তবায়ন কৌশল, সদস্য অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ঋণ কার্যক্রম এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

May be an image of dais and text

উদ্বোধনী বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, সঞ্জীবন প্রকল্প শুধু একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি নয়, বরং বাহিনীর সদস্যদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তিনি বলেন, “সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যরা আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।”

তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শুধুমাত্র চাকরির ওপর নির্ভরশীল না থেকে সদস্যদের নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হবে। এতে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

মহাপরিচালক আরও বলেন, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ করে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন। প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে তিনি সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের আন্তরিকতা, সমন্বয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

No photo description available.

কর্মশালায় উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। তিনি প্রকল্পের সূচনা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, এলাকা ভিত্তিক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ নির্বাচন, সদস্যদের অংশগ্রহণ, শ্রমের মূল্যায়ন, লভ্যাংশ বণ্টন, ঋণ পরিশোধ প্রক্রিয়া, সদস্যপদ বাতিল বা সদস্যের মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনুসরণীয় বিধান এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

আনসার ও ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক এনামুল খাঁন তার উপস্থাপনায় সদস্যপদ গ্রহণের প্রক্রিয়া, প্রকল্প পরিচালনা কাঠামো, ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ ব্যবস্থা এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএস-এর পরিচালক মো. রেজাউল করিম। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন সফল উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আর্থিক সহায়তা পেলে গ্রামীণ পর্যায়েও টেকসই উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব। তিনি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে টিএমএসএস-এর চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করেন।

May be an image of television, speaker, dais and text

এছাড়া আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা প্রকল্পে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা, সদস্যদের ঋণ বিতরণ, কিস্তি আদায় এবং ব্যাংকিং সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। তার উপস্থাপনায় প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

কর্মশালার সমাপনী পর্বে উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) সরাসরি উপস্থিত এবং জুম প্ল্যাটফর্মে যুক্ত অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন মতামত, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

অংশগ্রহণকারীরা সঞ্জীবন প্রকল্পকে বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি যুগোপযোগী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শুধু আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের জীবনমানের উন্নয়নই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সঠিক পরিকল্পনা, তদারকি এবং সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প ভবিষ্যতে একটি সফল ও টেকসই আত্মকর্মসংস্থানভিত্তিক মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *