রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সন্তু লারমা'র জেএসএসকে দায়ী করলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ড. দীপংকর থেরো - Southeast Asia Journal

রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সন্তু লারমা’র জেএসএসকে দায়ী করলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ড. দীপংকর থেরো

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

গত ১৬ মে দিবাগত রাতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিলাইছড়িতে সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস সন্ত্রাসীদের দ্বারা ধুপশীল আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ভাবনা কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন করে জেএসএস’র মুখোশ উন্মোচন করেছেন বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু ও ধুপশীল আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ভাবনা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. এফ দীপংকর থেরো।

১৮ মে সোমবার বেলা ১২টার দিকে রাঙামাটি প্রেস ক্লাব রির্জাভ বাজারে ধুপশীল আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ভাবনা কেন্দ্রের পরিচালনা কমিটির আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৫ মে জেএসএস (সন্তু) সন্ত্রাসী কর্তৃক রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ধুপশীল আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ভাবনা কেন্দ্র আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ড. এফ দীপঙ্কর থেরো (ভান্তে) এবং উক্ত ভাবনা কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ভিক্ষু শ্রীমৎ মহানামা ভিক্ষু, শ্রীমৎ মেমির ভিক্ষু, শ্রীমৎ জ্ঞাতিনমত্র ভিক্ষু ও চঞ্জিতমিত্র ভিক্ষু সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. এফ দীপঙ্কর মহাথেরো অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন সময় জেএসএস মূল দলের বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং পাহাড়ি জনসাধারণদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার জন্য নিষেধ করার কারণে, হিংসাত্মক মূলক ভাবে উক্ত ভাবনা কেন্দ্র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। উক্ত অগ্নিকাণ্ডে থাইল্যান্ড কর্তৃক প্রেরিত অষ্টধাতুর সুবিশাল মূল্যবান বুদ্ধমূর্তিসহ, বুদ্ধবাণী পবিত্র ত্রিপিটক, ভিক্ষুসংঘ, ভাবনাকারিদের নানাবিধি ব্যবহার্য সামগ্রী, আসবাবপত্র সহ আনুমানিক ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ড. এফ দীপঙ্কর থেরো বলেছেন, “আমি যেহেতু মানুষকে বলছি তোমরা জীব হত্যা করো না, মদ গাঁজা খেয়ো না, সন্ত্রাস করো না, জোর জুলুম করোনা, চাঁদাবাজী করো না। কিন্তু সেটা তো তারা মানতে রাজী নয়। তারা বলছে আমরা করবো তাতে তোমার কি? তোমার কারণে তো মানুষ অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। ওদের বক্তব্য হচ্ছে, আমি ওদের সন্ত্রাসী পথের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমার কারণে বহু মানুষ ভালো হচ্ছে, শান্তির পথে ফিরে আসছে, এই সন্ত্রাসীদের তা সহ্য হচ্ছে না। তারা চায় চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী, জোর জুলুম হত্যা, মারপিট এসব করে চলবে।”

তিনি বলেন, তাদের গুলিতে আমার সেবক গুলিবিদ্ধ হয়েছে।আমাকে বারবার ওরা মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে। আমি কারো মৃত্যু, ফাঁসি দাবী করতে পারি না। কিন্ত আমি চাই এই সন্ত্রাস বন্ধ হোক। বাংলাদেশ সরকার, পুলিশ ও সেনা প্রশাসনের কাছে আমার আহ্বান জেএসএস সন্ত্রাসীদের এই সন্ত্রাস বন্ধ হোক।

তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো জাতি নেই। কোনো ধর্ম নেই। ওরা মুসলিমও নয়, হিন্দুও নয়, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানও নয়। ওদের একটাই পরিচয় ওরা সন্ত্রাসী। ওদের তো কোনো ধর্ম নেই। ওরা তো টাকা পেলে মা বাবাকেও মেরে ফেলবে। ওদের কাছে কিসের মন্দির, কিসের মসজিদ? তারা তো সন্ত্রাসী। ওরা তো ধর্ম প্রচার করতেই দিচ্ছে না। ধর্ম যেহেতু শান্তির কথা বলে, আর ওরা সন্ত্রাসের কথা বলে। তাই ওরা ধর্ম প্রচারের বিরুদ্ধে। ওরা চায় না মানুষ ধর্ম পথে আসুক। তাহলে ওদের সন্ত্রাস করতে সুবিধা হবে। এফ দীপঙ্কর আরো বলেন, আমি যেহেতু মানুষকে বলছি তোমরা জীব হত্যা করো না, মদ গাঁজা খেয়ো না, সন্ত্রাস করো না, জোর জুলুম করোনা, চাঁদাবাজী করো না। কিন্তু সেটা তো তারা মানতে রাজী নয়। তারা বলছে আমরা করবো তাতে তোমার কি? তোমার কারণে তো মানুষ অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। ওদের বক্তব্য হচ্ছে, আমি ওদের সন্ত্রাসী পথের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমার কারণে বহু মানুষ ভালো হচ্ছে, শান্তির পথে ফিরে আসছে, এই সন্ত্রাসীদের তা সহ্য হচ্ছে না। তারা চায় চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী, জোর জুলুম হত্যা, মারপিট এসব করে চলবে। এই শান্তিবাহিনীর সদস্যদের একটাই শ্লোগান ধরো, মারো, কাটো।

পরিশেষে ড. এফ দীপঙ্কর ভান্তে কর্তৃক উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের মাধ্যমে, মাননীয় রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এবং সকল সরকারি কর্মকর্তাদের ুমাধ্যমে, উক্ত ঘটনার পিছনে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।