২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”
![]()
নিউজ ডেস্ক
বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজারের মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিজ হাতে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের ইচ্ছে প্রতি বছর অন্তত পাঁচ কোটি গাছ লাগানো। আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আগামী প্রজন্ম যেন একটি সুন্দর পৃথিবীতে বসবাস করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আজ থেকে সবাই যার যেখানে সম্ভব অন্তত একটি করে গাছ লাগান। আমরা যদি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে পারি, তাহলে আগামী প্রজন্ম দূষণমুক্ত পরিবেশ ও বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পাবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ উপহার দিতে চাই, যেখানে মানুষ নির্মল বাতাসে জীবনযাপন করতে পারবে।”
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর। শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, “বিএনপির রাজনীতিই মানুষের জন্য। ভোটের কালি শুকানোর আগেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।”
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। তবে মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিরোধীদল দুঃখ প্রকাশ করছে।”
পরে তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ জনসভাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বীচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।
সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।