পাহাড়ের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডিং স্কুলসহ সংসদে ৩ দাবি মাধবী মারমার

পাহাড়ের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডিং স্কুলসহ সংসদে ৩ দাবি মাধবী মারমার

পাহাড়ের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডিং স্কুলসহ সংসদে ৩ দাবি মাধবী মারমার
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক দুর্গমতা ও জাতিগত বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখে শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা। জাতীয় সংসদে চলমান বাজেট অধিবেশনে ছয় মিনিটের বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন আবাসিক স্কুল, মাতৃভাষা শিক্ষা, দূরশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়নের প্রস্তাব।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ধন্যবাদ জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পেশ করা বাজেটকে “বাস্তবসম্মত, জনকল্যাণমুখী ও সাহসী” বলে উল্লেখ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার এবং সাতটি পণ্যে শুল্ক হ্রাসের প্রশংসা করেন তিনি।

শিক্ষায় তিন সুপারিশ

তিন পার্বত্য জেলার প্রতিনিধি হিসেবে নিজের এলাকার সমস্যা তুলে ধরে মাধবী মারমা বলেন, সমতল অঞ্চলের তুলনায় শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। ভৌগোলিক দুর্গমতা ও জাতিগত বৈচিত্র্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা পরিকল্পনায় ভিন্নতা আনার অনুরোধ জানান তিনি।

তাঁর প্রথম সুপারিশ—আবাসিক বা বোর্ডিং স্কুল স্থাপন। তিনি বলেন, “ভৌগোলিক দুর্গমতা, উন্নত যোগাযোগের অভাব এবং বিচ্ছিন্ন বসবাসের কারণে সরকারের পক্ষে প্রতিটি গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই।” উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি স্মরণ করেন, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বান্দরবানের সোয়ালক ইউনিয়নে ম্রো জনগোষ্ঠীর জন্য যে আবাসিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা থেকে ম্রো ও খুমি জনগোষ্ঠীর অনেক শিক্ষার্থী আজ উচ্চশিক্ষিত হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন।

দ্বিতীয় সুপারিশ মাতৃভাষা শিক্ষা নিয়ে। তিনি বলেন, “পার্বত্য এলাকায় জাতিগত বৈচিত্র্যপূর্ণ ও নানা ভাষাভাষীর মানুষ বাস করে, তাই শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃভাষার শিক্ষা কার্যক্রম অতীব জরুরি। এটি দুটি ভাষার মধ্যে ব্রিজিংয়ের কাজ করে।” চলমান এই কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করতে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

তৃতীয় সুপারিশ দূরশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু নিয়ে। বেসরকারি পর্যায়ে চলমান অনলাইন স্কুলের জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে তিনি সরকারি উদ্যোগে উন্নত নেটওয়ার্কিং ও সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে দূরশিক্ষণ চালুর প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, এতে যাতায়াত-আবাসন খরচ কমবে, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমবে, শিক্ষক সংকট হ্রাস পাবে এবং শিক্ষার মান বাড়বে।

ক্রীড়াঙ্গনেও পার্বত্যবাসীর সম্ভাবনা

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নতুন উদ্যোগ—৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার প্রশংসা করে মাধবী মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের যুবসমাজ বরাবরই খেলাধুলায় আগ্রহী। তিনি উল্লেখ করেন ফুটবলার ঋতুপর্ণা, আন্তর্জাতিক বক্সার সুরা কৃষ্ণা, জুডো-কারাতে তারকা যৌব্রু উদয়মান এবং টেবিল টেনিস তারকা খৈয় সাইসহ পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের নাম।

এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তিনি প্রস্তাব দেন—ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিয়মিত ইভেন্টের পাশাপাশি তিন মাস, ছয় মাস বা এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা; নারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রশিক্ষণ ও ক্যাম্পে নারী-বান্ধব সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা; এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ষিক হিল স্পোর্টস ফেস্টিভাল আয়োজন করা।

তিনি বলেন, “এই ফেস্টিভালকে কেন্দ্র করে সারা বছরই ছোটখাট প্রশিক্ষণ চলতে থাকবে, যা ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় সুযোগ।”

বক্তব্যের শেষে অর্থমন্ত্রীর কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন মাধবী মারমা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *