রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এক উদ্যমী যুবকের সফল কুকুরের খামার - Southeast Asia Journal

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে এক উদ্যমী যুবকের সফল কুকুরের খামার

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে রুপকারি ইউনিয়নে মগবান গ্রামের বড় চাকমা। ছেলেবেলা থেকে প্রভুভক্ত কুকুরের প্রতি ভীষণ দুর্বলতা ছিল তার বড় চাকমার। তখন থেকে শখের বশে কুকুর পোষা শুরু করেন তিনি। শখের বশে শুরুতে কয়েকটি কুকুর পুষলেও ধীরে ধীরে সেটি খামারের রূপ ধারণ করে। বর্তমানে তিনি সফল একজন খামারি। বর্তমানে খামারটিতে প্রায় এককোটি টাকার কুকুর আছে। ব্যতিক্রম ও ভিন্নধর্মী উদ্যেগ নিয়ে কুকুরের খামার গড়ে তোলে পাহাড়ে আশার আলো দেখাচ্ছেন বড় চাকমা নামের এই পাহাড়ি যুবক।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে রুপকারি ইউনিয়নে মগবান গ্রামে খামারটি গড়ে তোলেন বড় চাকমা। খামারে ছয় প্রজাতির ছোট-বড় ২৬টি কুকুর আছে। শখের বশে করা এই খামারটি নাম রেখেছেন ‘চাকমা ক্যানেল অ্যান্ড এগ্রো ফার্ম’। কুকুর ছাড়াও বিভিন্ন প্রাণী পোষার কারণে তিনি এই নামটি রাখেন।

বড় চাকমা বলেন, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে কুকুরের খামারের কাজ শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে খামারটি বড় করি। এর পাশাপাশি ছাগল, দেশি ও বনমোরগ, শুকর ও টার্কি পালন করছি। তিনি জানান, তার ফার্মে ছয় জাতের কুকুর রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ান জাতের ককেশিয়ান শেফার্ড ও আলাবাই, জার্মান শেফার্ড, পাকিস্তানি জাতের বোলি কুত্তা, মুদহল হাউন্ডস ও দেশীয় সরাইল। জর্জিয়া থেকে ৩টি, রাশিয়া থেকে ২টি, পাঞ্জাবের হরিয়ানা থেকে ২টি,কর্নাটকের মধুল নামক জায়গা থেকে ৩টি, জার্মান শেফার্ড ঢাকা থেকে ২টি, সররাইল হার্ন্ট ২টি সংগ্রহ করেন। প্রায় এক একর জায়গার উপর নির্মিত খামারের পরিধি বাড়তে থাকলে ছোট ভাইসহ ছয়জন কর্মচারি নিয়োগ করা হয় খামারে।

কুকুরের জাত নিয়ে তিনি বলেন, ককেশিয়ান শেফার্ড ও আলাবাই রাশিয়ার সৈন্যরা বন্দীদের পাহারা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করে। এ ছাড়াও ককেশাস অঞ্চলে ভেড়ার খামারিরা নেকড়ে থেকে ভেড়াকে রক্ষার জন্য ককেশিয়ান শেফার্ড কুকুর ব্যবহার করে। এই দুই জাতের কুকুর খুবই হিংস্র। পাকিস্তানি জাতের বোলি কুকুরের মূল আবাসস্থল পাঞ্জাব। ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর এই কুকুরগুলোকে ইন্ডিয়ান ম্যাসটিফ ও পাকিস্তান ম্যাসটিফ নামে ডাকা হয়। আর সরাইল হার্ন্ট বাংলাদেশি জাতের হলেও বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ কুকুরটি খুবই ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন ও সাহসী। বড় চাকমা বলেন, খামারের পোষা কুকুরের বাচ্চা ও প্রতিটি কুকুরের দাম প্রায় ৭৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকার মতো। বর্তমানে খামারটিতে প্রায় এককোটি টাকার কুকুর আছে। খামারটি করার পর অনেক বড় বড় কোম্পানি ফোন করে খামার করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, অনেকে এখান থেকে কুকুর সংগ্রহ করেও নিয়ে যায়।

বাঘাইছড়ির স্থানীয়রা বলছেন, সরকার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করলে পাহাড়ে কুকুরের খামারের মাধ্যমে অনেক বেকার তরুণ স্বাবলম্বী হবে।

চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা আবু নাসের মোহাম্মদ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, “কুকুরের খামার গড়ার বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিমালা নেই, এই ধরনের কেউ উদ্যোগ গ্রহণ করে আবেদন করলে আমরা বিষয়টি বিবেচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।”