উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে জাইকা প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল
![]()
নিউজ ডেস্ক
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে। এ সময় তারা ক্যাম্পের স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা, জীবিকা উন্নয়ন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-০৪-এর সিআইসি কার্যালয়ে পৌঁছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রশাসনিক কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং চলমান মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয়। এ সময় তারা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
পরে প্রতিনিধি দল ক্যাম্প-০৪-এর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত ই-ভাউচার আউটলেট পরিদর্শন করে। সেখানে ডিজিটাল ভাউচারের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, উপকারভোগীদের পণ্য নির্বাচন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

এরপর প্রতিনিধি দল জাইকার সহায়তায় পরিচালিত ‘মুক্তি কক্সবাজার’-এর হোমস্টেড ভেজিটেবল গার্ডেনিং প্রকল্প পরিদর্শন করে। প্রকল্পের মাধ্যমে রোহিঙ্গা পরিবারের পুষ্টি নিরাপত্তা, খাদ্য চাহিদা পূরণ এবং স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।
এ ছাড়া ক্যাম্প-০৪ (এক্সটেনশন)-এর সি/০১ ব্লকে সিএনআরএস পরিচালিত স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। সেখানে রোহিঙ্গা নারীদের সেলাই, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সফরের শেষ পর্যায়ে প্রতিনিধি দল ক্যাম্প-২০ (এক্সটেনশন)-এ আইওএম পরিচালিত প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার ও ইনফেকশাস ডিজিজ ট্রিটমেন্ট সেন্টার পরিদর্শন করে। সেখানে বহির্বিভাগ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, জরুরি চিকিৎসা, সংক্রামক রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা, ল্যাবরেটরি, ওষুধ সরবরাহ, রেফারেল এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেন তারা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শন শেষে জাইকার প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় (আরআরআরসি) থেকে জানানো হয়, ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজারে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, জীবিকা, মৎস্য, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) এবং নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ, অনুদান ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে প্রায় ৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে জাইকা।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (এফডিএমএন) ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতেই এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
জানা গেছে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় আরআরআরসিকে কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে জাইকা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।