তিন পার্বত্য জেলায় বাঙালিদের জন্যও আয়কর মওকুফ ও ব্যাংক ঋণ চালুর দাবি নাগরিক পরিষদের
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত পিছিয়ে পড়া বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্যও আয়কর মওকুফ, বাজারফান্ড এলাকায় বন্ধ থাকা ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পুনরায় চালু এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বান্দরবান শহরের গ্র্যান্ড ভ্যালি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি বলেন, সরকার সম্প্রতি পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আয়কর অব্যাহতির যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেটিকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে একই অঞ্চলে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক বাঙালি নাগরিককে এ সুবিধার বাইরে রাখলে বৈষম্য আরও প্রকট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাঙালিদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই শুধু একটি জনগোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের সকল স্থায়ী বাসিন্দার জন্য সমানভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কাজী মো. মজিবর রহমান আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বাজারফান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, নতুন উদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষ ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা নতুন উদ্যোগ গ্রহণে আর্থিক সংকটে পড়ছেন। তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্যও আয়কর মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বাজারফান্ড এলাকায় পূর্বের ন্যায় সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ বিতরণ পুনরায় চালু করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিগত বিভাজনের পরিবর্তে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ব্যবসা, কৃষি, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।
তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন সেখানে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে সরকারের কাছে তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বান্দরবান জেলা সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম, জেলা সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আয়কর অব্যাহতির প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ একই অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্যও সমান অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।