দুর্গম বার্মাছড়িতে অসচ্ছল পাহাড়ি পরিবারকে মুদি দোকান উপহার দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দুর্গম বার্মাছড়িতে অসচ্ছল পাহাড়ি পরিবারকে মুদি দোকান উপহার দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দুর্গম বার্মাছড়িতে অসচ্ছল পাহাড়ি পরিবারকে মুদি দোকান উপহার দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার দুর্গম বার্মাছড়ি এলাকায় এক অসচ্ছল পাহাড়ি পরিবারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকান নির্মাণ ও ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করেছে সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়ন।

স্থানীয়দের মতে, সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনাই সৃষ্টি করেনি, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য করারও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

জানা যায়, গুইমারা রিজিয়নের উদ্যোগে এবং লক্ষীছড়ি জোনের আওতাধীন বার্মাছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমে কালাই চাকমা নামে এক অসচ্ছল পাহাড়ি পরিবারের জন্য দোকানটি নির্মাণ করা হয়।

দুর্গম বার্মাছড়িতে অসচ্ছল পাহাড়ি পরিবারকে মুদি দোকান উপহার দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, দোকানটির অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজনীয় বাঁশ, কাঠ, টিনসহ সব ধরনের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি দোকানটি চালু করার জন্য চাল, ডাল, তেল, লবণ, বিস্কুট, সাবানসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করে মজুদ করা হয়েছে, যাতে কালাই চাকমা শুরু থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং নিয়মিত আয় করতে সক্ষম হন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দুর্গম বার্মাছড়ি এলাকায় আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে অনেক দূরে যেতে হতো। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই ব্যয় হতো। নতুন এই মুদি দোকান চালু হওয়ায় এখন এলাকার মানুষ নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় পণ্য সহজে সংগ্রহ করতে পারবেন। একই সঙ্গে একটি অসচ্ছল পরিবারের জন্য স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি হওয়ায় তাদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

দুর্গম বার্মাছড়িতে অসচ্ছল পাহাড়ি পরিবারকে মুদি দোকান উপহার দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব উদ্যোগ পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করছে।

তারা আরও বলেন, দুর্গম এলাকায় সরকারি বিভিন্ন সেবা পৌঁছানো কঠিন হলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং দুর্যোগের সময় ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার মতো কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

দুর্গম বার্মাছড়িতে অসচ্ছল পাহাড়ি পরিবারকে মুদি দোকান উপহার দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

সেনাবাহিনী, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বই পালন করছে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ পাহাড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *