টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত বান্দরবান, ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ সব পর্যটনকেন্দ্র

টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত বান্দরবান, ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ সব পর্যটনকেন্দ্র

টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত বান্দরবান, ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ সব পর্যটনকেন্দ্র
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ এবং দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী হাজারো মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লামা ও আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আলীকদম-লামা সড়কের একাধিক স্থান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুই উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ের মাটি ও পাথর সড়কে নেমে আসায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, সিভিল ডিফেন্স, সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক থেকে মাটি অপসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর পানি ও তীব্র স্রোত বৃদ্ধির কারণে থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। ঝুঁকি বিবেচনায় নদীপথে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হবে। বর্তমানে তারা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় ভ্রমণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। পর্যটক ও স্থানীয়দের এ নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে বান্দরবান জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা এবং নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, “পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed