মণিপুরে আবারও উত্তেজনা, মেইতেইদের পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ কুকিদের বিরুদ্ধে

মণিপুরে আবারও উত্তেজনা, মেইতেইদের পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ কুকিদের বিরুদ্ধে

মণিপুরে আবারও উত্তেজনা, মেইতেইদের পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ কুকিদের বিরুদ্ধে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মণিপুরে আবারও জাতিগত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) ইম্ফল পশ্চিম জেলার কান্তো সাবাল এলাকায় কুকি সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে মেইতেই সম্প্রদায়ের পরিত্যক্ত অন্তত পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘাতপ্রবণ রাজ্যটিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী কুকি অধ্যুষিত কাংপোকপি জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক কুকি বিক্ষোভকারী ইম্ফল পশ্চিম ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কান্তো সাবালের দিকে মিছিল নিয়ে আসেন। শনিবার দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে তারা মেইতেই সম্প্রদায়ের অন্তত পাঁচটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অগ্নিসংযোগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের উপত্যকা এলাকার বাসিন্দা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের ভারতীয় সেনাবাহিনী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যরা বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক দফা টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন এল. বিজেতা অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলের কাছেই সেনাবাহিনীর একটি গ্যারিসন ও একটি অস্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি থাকা সত্ত্বেও বাড়িগুলোতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “জাতিগত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আমার পরিবার একটি ত্রাণশিবিরে বসবাস করছে এবং আমাদের বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের আশ্বস্ত করেছিল যে আমাদের সম্পত্তি নিরাপদ থাকবে। কিন্তু সেই আশ্বাসের পরও আজ আমাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।”

বিজেতার দাবি, বিক্ষোভকারীরা কান্তো সাবালের উপত্যকামুখী অংশে প্রবেশ করে, যেখানে বাস্তুচ্যুত মেইতেই পরিবারগুলো এখনো ফিরে যেতে পারেনি। সেখানে তারা পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে আগুন লাগিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর রক্ষার জন্য ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। ফলে তারা নিজেদের সম্পত্তি রক্ষা করার সুযোগ পাননি।

এই ঘটনায় ইম্ফল উপত্যকা ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জেলার মধ্যকার সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় আবারও উত্তেজনা বেড়ে গেছে।

তবে ঘটনাটি কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মণিপুর রাজ্য সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলমান জাতিগত সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও সাম্প্রতিক এ ঘটনায় রাজ্যটিতে আবারও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *